• ১২ আশ্বিন ১৪৩৩, শুক্রবার ০২ অক্টোবর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Cm

খেলার দুনিয়া

ম্যাচের আগেই মুখ্যমন্ত্রীর আমন্ত্রণ, কলকাতায় ব্রাজিল ও উরুগুয়ে প্রতিনিধিদের জন্য বিশেষ আয়োজন

৩ অক্টোবর কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে খেলবে ভারতীয় ফুটবল দল। এর তিন দিন পর, ৬ অক্টোবর একই মাঠে উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে ভারত। সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সূচি অনুযায়ী, দুই ম্যাচই কলকাতায় অনুষ্ঠিত হবে।ব্রাজিলের বিরুদ্ধে এই ম্যাচ ঘিরে ইতিমধ্যেই কলকাতায় ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ব্রাজিলের ঘোষিত দলে রয়েছেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র, রাফিনিয়া, এন্ড্রিক, এস্তেভাও, জোয়াও পেদ্রো, ব্রুনো গিমারায়েস, ডগলাস লুইজ, মারকুইনহোস এবং গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েসের মতো একাধিক তারকা ফুটবলার।ব্রাজিলের দলটি ২৬ সদস্যের। কোচ কার্লো আনচেলোত্তির বেছে নেওয়া এই দলে অভিজ্ঞ তারকাদের পাশাপাশি বেশ কয়েক জন তরুণ ফুটবলারও রয়েছেন। ফলে কলকাতায় ব্রাজিলের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ম্যাচের আগের সন্ধ্যায় ব্রাজিল ও উরুগুয়ে দলের প্রতিনিধিদের রাজ্য সরকারের তরফে বিশেষ নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উপস্থিত থাকবেন বলে সূত্রের খবর। ভারতীয় দলের প্রতিনিধিদেরও ওই অনুষ্ঠানে থাকার কথা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।তবে এই নৈশভোজের বিষয়ে সরকারি ভাবে বিস্তারিত ঘোষণা এখনও সামনে আসেনি। তাই অনুষ্ঠানটির চূড়ান্ত আয়োজন এবং কারা উপস্থিত থাকবেন, তা নিয়ে শেষ মুহূর্তে পরিবর্তন হতে পারে।৩ অক্টোবরের ভারত-ব্রাজিল ম্যাচ ঘিরে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনেও প্রস্তুতি চলছে। গ্যালারি, প্রবেশপথ, মাঠ এবং দর্শকদের বিভিন্ন পরিষেবা উন্নত করার কাজ করা হচ্ছে। বিপুল দর্শক সমাগমের কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তার ব্যবস্থাতেও জোর দেওয়া হয়েছে।ম্যাচের দিন গ্যালারিতে মুখ্যমন্ত্রী-সহ রাজ্যের একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তির উপস্থিতির সম্ভাবনার কথা জানা যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্যও ম্যাচ দেখতে কলকাতায় আসতে পারেন বলে আপনার দেওয়া তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। তবে তাঁর উপস্থিতি এখনও নিশ্চিত নয়।ভারতের সামনে অবশ্য কঠিন দুই পরীক্ষা। প্রথমে ৩ অক্টোবর ব্রাজিল এবং তারপর ৬ অক্টোবর উরুগুয়ের বিরুদ্ধে খেলবে ভারত। দুই দলই সদ্য বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলেছে এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাদের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনও জানিয়েছে, এই ম্যাচগুলি ভারতীয় দলের জন্য উচ্চমানের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নিজেদের পরীক্ষা করার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।ব্রাজিলের দলে ভিনিসিয়াস জুনিয়র, রাফিনিয়া, মারকুইনহোস এবং ব্রুনো গিমারায়েসের মতো তারকারা থাকায় ৩ অক্টোবরের ম্যাচ নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই প্রত্যাশা তুঙ্গে। ২৯ সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ব্রাজিল ৪-২ গোলে জিতেছে। সেই ম্যাচে ভিনিসিয়াস জুনিয়র পেনাল্টি থেকে গোল করেন এবং ব্রুনো গিমারায়েসও গোল করেন। রাফিনিয়া চোটের কারণে বিরতির সময় মাঠ ছাড়েন, তাই কলকাতার ম্যাচে তাঁর শারীরিক অবস্থার দিকেও নজর থাকবে।সব মিলিয়ে ৩ অক্টোবরের ভারত-ব্রাজিল ম্যাচকে ঘিরে কলকাতায় এখন থেকেই উৎসবের আবহ। যুবভারতীর মাঠে দুই দলের লড়াইয়ের পাশাপাশি ম্যাচের আগে সম্ভাব্য বিশেষ আয়োজন এবং গ্যালারিতে বিশিষ্ট অতিথিদের উপস্থিতি এই ফুটবল সন্ধ্যাকে আরও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
কলকাতা

৬ মাসের শিশুকে বাঁচাতে চাই ১৭ কোটি! আমেরিকা থেকে আসবে এক ইঞ্জেকশন, মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে মা-বাবা

বেলঘরিয়ার এক দম্পতির ছয় মাসের শিশুপুত্র পিয়ল বিরল স্নায়ুরোগে আক্রান্ত। চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রফি বা এসএমএ টাইপ এক রোগ ধরা পড়েছে। এই রোগে শরীরের পেশির নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণকারী মোটর নিউরন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে হাত, পা ও ঘাড়ের পেশি ক্রমশ দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এসএমএ-র গুরুতর ধরনের ক্ষেত্রে শ্বাস নেওয়া, খাবার গেলা-সহ একাধিক শারীরিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে।পরিবারের দাবি, বয়স অনুযায়ী পিয়লের ঘাড় এখনও শক্ত হয়নি। অন্য সমবয়সি শিশুরা যে ভাবে হাত-পা নাড়িয়ে খেলতে পারে, পিয়ল তা পারে না। প্রথমে হাত-পা নাড়াতে না পারায় পরিবারের সন্দেহ হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে একাধিক পরীক্ষা করানোর পর শিশুটির রোগ ধরা পড়ে।তিন মাস বয়সে পিয়লের এই রোগ শনাক্ত হয় বলে পরিবার জানিয়েছে। বর্তমানে কলকাতার পিয়ারলেস হাসপাতালে চিকিৎসক সংযুক্তা দে-র অধীনে তার চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকদের তরফে পরিবারকে জিন থেরাপির কথা জানানো হয়েছে। পরিবারের দাবি, সেই চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ আমেরিকা থেকে আনতে হবে এবং তার দাম প্রায় ১৭ কোটি টাকা।এসএমএ-র চিকিৎসায় ব্যবহৃত জিন থেরাপির ওষুধ অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এর আগে কলকাতার পিয়ারলেস হাসপাতালেই এসএমএ আক্রান্ত এক শিশুকে প্রায় ১৭ কোটি টাকার জিন থেরাপি দেওয়া হয়েছিল। ওই চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।পিয়লের পরিবারের পক্ষে এত বিপুল টাকা জোগাড় করা কার্যত অসম্ভব। তাই সন্তানের চিকিৎসার জন্য সাহায্যের আশায় মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে হাজির হন শিশুটির মা-বাবা। তাঁদের বক্তব্য, সন্তানের চিকিৎসার খরচের কথা জানার পর থেকেই তাঁরা অর্থ জোগাড়ের চেষ্টা করছেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় টাকার পরিমাণ এত বেশি যে একার পক্ষে তা জোগাড় করা সম্ভব নয়।পরিবারের দাবি, জনতার দরবারে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করার পর তাঁদের চিকিৎসার জন্য সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সরকারের তরফে যতটা সম্ভব সাহায্য করার কথা জানানো হয়েছে বলেও পরিবার জানিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই আশ্বাসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।পরিবারের আরও দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের আধিকারিক গৌতম দাস নিজের এক মাসের বেতন শিশুটির চিকিৎসার জন্য দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে পিয়লের বাবা-মা সাধারণ মানুষের কাছেও সাহায্যের আবেদন করেছেন।শিশুটির মা জানিয়েছেন, ছেলের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ তাঁদের পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়। সেই কারণেই তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এসেছিলেন। সাহায্যের আশ্বাস পাওয়ায় তাঁরা নতুন করে আশার আলো দেখছেন।পিয়লের বাবা জানিয়েছেন, আমেরিকা থেকে ইঞ্জেকশন আনতে হবে এবং তার জন্য প্রায় ১৭ কোটি টাকা প্রয়োজন। এত টাকা সাধারণ পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয় বলেই তিনি জানিয়েছেন। তাঁর আবেদন, সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষ পাশে দাঁড়ালে সন্তানের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সম্ভব হতে পারে।এখন পিয়লের পরিবারের প্রধান লক্ষ্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। পরিবার জানিয়েছে, সন্তানকে সুস্থ করার লড়াইয়ে তাঁরা শেষ পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যেতে চান। মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের আশ্বাস এবং সাধারণ মানুষের সাহায্য মিললে সেই লড়াইয়ে কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে বলে আশা করছে পরিবার।

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
কলকাতা

‘মৌসম বদলেছে, জমানাও বদলেছে’, সাধুদের কী বার্তা দিলেন শুভেন্দু?

নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ১১ হাজার কণ্ঠে গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাধু-সন্তদের উদ্দেশে বড় বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, সময় বদলেছে, পরিস্থিতিও বদলেছে। তাই সাধু-সন্তদের ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। তাঁরা মন খুলে গীতাপাঠ, গীতা বিতরণ এবং হনুমান চালিশা পাঠ করতে পারেন।শুভেন্দুর দাবি, সাধু-সন্তদের অপমান করা বা তাঁদের ভয় দেখানোর ঘটনা কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এমন ঘটনা ঘটলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জেল পর্যন্ত হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। সম্প্রতি বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ানোর অভিযোগে কলকাতায় এক কংগ্রেস নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার আগে বিধানসভা থেকে ওই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন শুভেন্দু।গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে নিজের বক্তব্যের শেষে গীতার একটি অধ্যায়ও পাঠ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সাধু-সন্তদের ধর্মীয় কাজকর্ম নিয়ে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। গীতা পাঠ, গীতা বিতরণ, হনুমান চালিশা পাঠের পাশাপাশি ধর্মীয় বাদ্যযন্ত্র বাজানো বা হরেকৃষ্ণ নাম করার ক্ষেত্রেও কোনও ভয় থাকা উচিত নয়।শুভেন্দুর বক্তব্যে বাগেশ্বর বাবার প্রসঙ্গও উঠে আসে। তিনি বলেন, কোনও সাধু-সন্ত নিজের মতো করে সনাতনী ধর্মের প্রচার করতে পারেন। কেউ তাঁর বক্তব্য গ্রহণ করবেন কি না, সেটা ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু তাঁর ছবি পোড়ানো বা তাঁকে অপমান করার ঘটনা গ্রহণযোগ্য নয়। বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই পুলিশি পদক্ষেপ হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।শুভেন্দু আরও বলেন, সাধু-সন্তদের অপমান করা বা ভয় দেখানোর চেষ্টা করলে ভবিষ্যতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্যে ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি সবাইকে এক থাকার বার্তাও উঠে আসে।এদিনের অনুষ্ঠানে আগামী ২৯ ডিসেম্বর কলকাতায় আরও বড় গীতাপাঠের আয়োজনের কথা জানান শুভেন্দু। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, ওই দিন ১০ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠের আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের প্রধান মোহন ভাগবত প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতে পারেন বলেও জানান তিনি।গীতাপাঠের মঞ্চ থেকেই রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করেন শুভেন্দু। শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আজাদি সংক্রান্ত মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া জানান।শুভেন্দুর বক্তব্য, এই ধরনের মন্তব্য করলে রাষ্ট্রবাদী মানুষের প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে হবে। তাঁর বক্তব্যে উপড়ে ফেলে দেওয়ার মতো তীব্র রাজনৈতিক ভাষাও উঠে আসে। এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।এদিনের অনুষ্ঠানে ধর্মীয় আচার, সাধু-সন্তদের নিরাপত্তা ও সম্মানের পাশাপাশি রাজনৈতিক বিষয়ও উঠে আসে। একদিকে বাগেশ্বর বাবাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক, অন্যদিকে ছবি পোড়ানোর ঘটনায় পুলিশি পদক্ষেপএই দুই ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেই শুভেন্দুর নতুন বক্তব্য সামনে এল। বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যের সঙ্গে বিজেপির একাংশের মতপার্থক্যের কথাও সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।সব মিলিয়ে ১১ হাজার কণ্ঠে গীতাপাঠের অনুষ্ঠান থেকে সাধু-সন্তদের উদ্দেশে শুভেন্দুর বার্তা এবং আগামী দিনে আরও বড় গীতাপাঠের ঘোষণা রাজনৈতিক ও ধর্মীয়দুই ক্ষেত্রেই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
রাজ্য

শুভেন্দুর ‘মৃত্যুকামনা’ হুমায়ুনের! সাংবাদিক বৈঠকে বিস্ফোরক মন্তব্যে বাংলার রাজনীতিতে তোলপাড়

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে নতুন করে রাজনৈতিক চর্চায় আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর। রবিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর দ্রুত মৃত্যু কামনা করার কথা বলেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।হুমায়ুনের বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তাঁর একাধিক অভিযোগ। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী ক্ষমতায় আসার পর হাতির পাঁচ পা দেখেছেন এবং তাঁর আমলে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার চলছে। সেই অভিযোগের প্রসঙ্গেই তিনি শুভেন্দুর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করেন।সাংবাদিক বৈঠকে হুমায়ুন বলেন, তিনি উপরওয়ালার কাছে প্রার্থনা করবেন যাতে শুভেন্দু অধিকারী দ্রুত পৃথিবী থেকে বিদায় নেন। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, ক্ষমতা ও অহংকারের পতন একদিন হবেই। এই বক্তব্যের পরেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।শুধু বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়েই নয়, নিজের রাজনৈতিক জীবনের পুরনো প্রসঙ্গও টেনে আনেন হুমায়ুন। তিনি দাবি করেন, তৃণমূল থেকে তাঁকে বহিষ্কার করার সময়ও তিনি প্রার্থনা করেছিলেন যাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতাচ্যুত হন এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হয়ে যান। তাঁর দাবি, পরে সেই প্রার্থনা পূরণ হয়েছিল।এর পরেই শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে আরও বিতর্কিত মন্তব্য করেন তিনি। নিজের বক্তব্যের সমর্থনে তিনি অতীতের কয়েক জন রাজনৈতিক নেতার মৃত্যুর প্রসঙ্গও টেনে আনেন। সেই অংশ নিয়েই তাঁর বক্তব্যকে ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।শুভেন্দু অধিকারী এবং হুমায়ুন কবীরের রাজনৈতিক সংঘাত অবশ্য নতুন নয়। এর আগেও হুমায়ুনের বিভিন্ন মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক হয়েছে। সম্প্রতি রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করেও তাঁর বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছে। তাঁর দল নির্বাচনী প্রচার থেকে সরে দাঁড়ানোর কথাও জানিয়েছিল।এই পরিস্থিতিতে হুমায়ুনের নতুন মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে আরও উত্তাপ বাড়াল। তাঁর বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অন্য দিকে, উপনির্বাচনের আগে হুমায়ুনের একাধিক বক্তব্য নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও পুলিশের কাছে পদক্ষেপের দাবিও উঠেছে।তবে হুমায়ুন কবীরের বক্তব্য তাঁর নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও মন্তব্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তাঁর করা অভিযোগগুলির সত্যতা বা তাঁর মন্তব্যের রাজনৈতিক ব্যাখ্যা আলাদা বিষয়। সামগ্রিক ভাবে, মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্য পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী আবহে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
কলকাতা

‘১৫০ জন লোক, ১৭০ পুলিশ’! মমতার শ্রীরামপুরের সভা নিয়ে কী বললেন শুভেন্দু?

ভোটের পর শনিবার শ্রীরামপুরে জনসভা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর কলকাতার বাইরে তাঁর প্রথম বড় জনসভা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। আদালতের নির্দেশে শ্রীরামপুর কোর্ট ময়দানে সভা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সভায় সর্বোচ্চ এক হাজার জনের জমায়েতের শর্তও ছিল।সেই সভার পর রবিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শ্রীরামপুরের সভায় কত মানুষ এসেছিলেন, তা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন তিনি। শুভেন্দুর দাবি, সভায় মোটামুটি পাঁচশো মানুষের মতো উপস্থিতি ছিল এবং তাঁদের মধ্যে পুলিশের কর্মী ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য ছিল।শুভেন্দুর বক্তব্যে আরও নির্দিষ্ট ভাবে দেড়শো জন এবং একশো সত্তর জন পুলিশের উপস্থিতির কথা উঠে আসে। তবে এই সংখ্যাগুলি শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে করা দাবি। সভার প্রকৃত উপস্থিতির কোনও সরকারি হিসাব প্রকাশ্যে এসেছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।মমতার শ্রীরামপুরের সভায় মূল বিষয় ছিল এসআইআর বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন। সভা থেকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানান মমতা। তাঁর অভিযোগ, এসআইআরের মাধ্যমে বহু বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। দেশজুড়ে এই ইস্যুতে প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।মমতার ওই বক্তব্যের পরই পাল্টা আক্রমণ করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, এসআইআর নিয়ে বিরোধীরা মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করার চেষ্টা করছে। বিভিন্ন দুর্নীতি ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ থেকে মানুষের নজর সরাতেই এসআইআরকে সামনে আনা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।আবাসন প্রকল্প, সামাজিক সুরক্ষা, নিয়োগ, কয়লা, বালি এবং গবাদি পশু পাচার-সহ একাধিক বিষয়ে ওঠা অভিযোগের প্রসঙ্গও টানেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, এই বিষয়গুলিতে তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপের মুখে পড়ার কারণেই এসআইআর নিয়ে রাজনৈতিক প্রচার বাড়ানো হচ্ছে।শুভেন্দু একই সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সিপিএমের সাম্প্রতিক যোগাযোগের প্রসঙ্গও তোলেন। তাঁর দাবি, একসময় যে সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়াই করে তৃণমূল ক্ষমতায় এসেছিল, এখন সেই সিপিএমের সঙ্গেই মমতার যোগাযোগ তৈরি হয়েছে। এসআইআর ইস্যুতে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির সঙ্গে মমতার কথোপকথনকে সামনে রেখে এই কটাক্ষ করেন তিনি।এর আগে মমতা জানিয়েছিলেন, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বৃহত্তর বিরোধী ঐক্য গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে। শ্রীরামপুরের সভাতেও তিনি এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের একসঙ্গে লড়াই করার বার্তা দেন।মমতার সভার আগে শ্রীরামপুরে রাজনৈতিক উত্তেজনাও তৈরি হয়েছিল। সভায় যাওয়ার পথে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের গাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠে। গাড়ির পিছনের কাচ ভাঙা এবং গাড়িতে ডিম ছোড়ার ঘটনাও সামনে আসে।সভা নিয়ে এর আগে আদালতেও টানাপড়েন হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাই কোর্ট শ্রীরামপুর কোর্ট ময়দানে সভার অনুমতি দেয় এবং সর্বোচ্চ এক হাজার জনের জমায়েতের সীমা নির্ধারণ করে। সভায় উস্কানিমূলক বক্তব্য না দেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার মতো একাধিক শর্তও দেওয়া হয়েছিল।ফলে মমতার শ্রীরামপুরের সভার পর এখন পাল্টা আক্রমণে শুভেন্দু। একদিকে সভার ভিড় নিয়ে তাঁর দাবি, অন্যদিকে এসআইআর, তৃণমূলের রাজনৈতিক অবস্থান এবং মমতার সঙ্গে সিপিএমের যোগাযোগসব মিলিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
কলকাতা

মমতা-বেবির ফোনালাপের পরেই বিস্ফোরক শুভেন্দু! ‘সিপিএম-তৃণমূলের ভালোবাসা’

এসআইআর বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সরব বিরোধী দলগুলি। এই ইস্যুতে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। চিঠির পাশাপাশি দুজনের ফোনে কথাও হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে। তবে এই যোগাযোগকে এখনও পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল ও সিপিএমের আনুষ্ঠানিক জোট বা রাজনৈতিক সমঝোতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি।এই পরিস্থিতিতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সিপিএমকে একসঙ্গে নিশানা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কটাক্ষ, যে সিপিএমকে সরিয়ে তৃণমূল একসময় রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছিল, এখন সেই সিপিএমের সঙ্গেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগাযোগ তৈরি হয়েছে।শুভেন্দুর বক্তব্য, সিপিএম-তৃণমূলের ভালোবাসা তৈরি হয়েছে। তাঁর আরও দাবি, মমতার সঙ্গে সিপিএমের পাশাপাশি কংগ্রেসেরও যোগাযোগ তৈরি হয়েছে। এসআইআর ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলির মধ্যে সমন্বয়ের যে চেষ্টা চলছে, সেটিকেই রাজনৈতিক আক্রমণের হাতিয়ার করেছেন তিনি।গত শনিবার শ্রীরামপুরে সভা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে নির্বাচন কমিশন এবং এসআইআর নিয়ে সরব হন তিনি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করার পাশাপাশি সভা থেকে আজাদি স্লোগানও শোনা যায়। এই বক্তব্যের পরই মমতা ও বামেদের মধ্যে যোগাযোগ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।এর আগে জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিকে সামনে রেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন এম এ বেবি। বিরোধী দলগুলিকে আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানও জানিয়েছিলেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক। আগামী দিনে এই ইস্যুতে বিরোধী দলগুলির বৃহত্তর সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছিলেন।তবে সিপিএমের তরফে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের সঙ্গে কোনও নির্বাচনী জোটের ঘোষণা হয়নি। বরং সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম স্পষ্ট করেছেন, জ্ঞানেশ কুমার ইস্যুতে জাতীয় স্তরে বিরোধী দলগুলির মধ্যে সমন্বয় থাকলেও বাংলার রাজনীতিতে তৃণমূলের সঙ্গে তাদের রাজনৈতিক লড়াই চলবে।এই জায়গাতেই শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্যের গুরুত্ব বাড়ছে। তিনি মমতা ও সিপিএমের যোগাযোগকে রাজনৈতিক সমীকরণের সঙ্গে জুড়ে দেখেছেন। তাঁর বক্তব্য, সিপিএম একসময় রাজ্যে তৃণমূলের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ছিল। সেই সিপিএমের সঙ্গেই এখন মমতার যোগাযোগ তৈরি হওয়াকে তিনি কটাক্ষ করেছেন।শুভেন্দু আরও দাবি করেছেন, তৃণমূলের সঙ্গে সিপিএমের এই যোগাযোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলাতে পারবে না। বামেদের সঙ্গে হাত মিলিয়েও তৃণমূলের পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব নয়এই বার্তাই দিয়েছেন তিনি।অন্যদিকে, এসআইআর নিয়ে বিরোধী দলগুলির সমন্বয়ের মূল বিষয়টি এখনও জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত এবং ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলেছেন।ফলে জ্ঞানেশ কুমার ও এসআইআর বিতর্ক এখন শুধু নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে সীমাবদ্ধ নেই। জাতীয় স্তরে বিরোধী দলগুলির যোগাযোগ এবং বাংলায় তৃণমূল ও সিপিএমের পারস্পরিক রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। তবে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের এই পর্বকে এখনও আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক জোট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
কলকাতা

তিন লক্ষ দশ হাজার বোতলে রোড রোলার! কলকাতায় নেশামুক্তি অভিযানে নিজেই স্টিয়ারিংয়ে শুভেন্দু

পশ্চিমবঙ্গে নেশাবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করার কথা জানিয়েছে রাজ্য সরকার। বালুরঘাটের পর এ বার কলকাতাতেও নিষিদ্ধ কাফসিরাপ ধ্বংস করা হল। নিউ টাউনের ইকোপার্কে আয়োজিত নেশামুক্তি কর্মসূচিতে গিয়ে তিন লক্ষ দশ হাজার নিষিদ্ধ কাফসিরাপের বোতলের উপর রোড রোলার চালান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ঘটনাটি বুধবারের।কলকাতা পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, ওই নিষিদ্ধ কাফসিরাপের আনুমানিক মূল্য প্রায় একত্রিশ কোটি টাকা। পুলিশ যে বিপুল পরিমাণ কাফসিরাপ বাজেয়াপ্ত করেছিল, এ দিন ইকোপার্কে তারই একটি অংশ ধ্বংস করা হয় বলে জানা গিয়েছে।এর আগে বালুরঘাটেও নেশামুক্তি অভিযান চালানো হয়েছিল। সেই অভিযানের পর এ বার কলকাতায় একই ধরনের কর্মসূচি নেওয়া হল। ইকোপার্কে রাখা হয়েছিল কলকাতা পুলিশের বাজেয়াপ্ত করা তিন লক্ষ দশ হাজার নিষিদ্ধ কাফসিরাপের বোতল। সেগুলির উপর দিয়েই রোড রোলার চালান মুখ্যমন্ত্রী।রোড রোলারের স্টিয়ারিং নিজেই ধরেন শুভেন্দু। নিষিদ্ধ কাফসিরাপ ধ্বংসের এই কর্মসূচির মাধ্যমে নেশার বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, এটি নেশামুক্তি অভিযানের দ্বিতীয় বড় কর্মসূচি। তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্রের নেশামুক্ত ভারত অভিযানের সঙ্গে রাজ্যেও নেশাবিরোধী অভিযানকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, নেশার সঙ্গে যুক্ত অপরাধের কারণে মহিলাদের উপর অত্যাচার-সহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ বাড়তে পারে। তাঁর আরও দাবি, বেআইনি নেশার কারণে বহু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই নেশামুক্তির বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।শুভেন্দু জানান, এই অভিযানে সীমান্তরক্ষী বাহিনী, পুলিশ এবং প্রশাসনের বিভিন্ন স্তর একসঙ্গে কাজ করছে। বালুরঘাটের পর কলকাতাতেও সেই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।রাজ্য পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জাভেদ শামিমের বক্তব্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ইয়াবা উদ্ধারের ক্ষেত্রেও বড় সাফল্য এসেছে। পাশাপাশি কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য পুলিশ নিয়মিত ভাবে নেশাবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে বলেও জানান তিনি।কলকাতায় তিন লক্ষ দশ হাজার নিষিদ্ধ কাফসিরাপ ধ্বংসের এই কর্মসূচিকে নেশাবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবেই দেখছে রাজ্য সরকার। আগামী দিনে নিষিদ্ধ মাদক ও কাফসিরাপের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে কি না, সে দিকেই এখন নজর।

সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬
রাজ্য

শিল্পে বড় সুখবর, বাংলায় ‘বনতারা’! আম্বানির সঙ্গে বৈঠকে শুভেন্দু

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: রাজ্যের শিল্পক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত। মুম্বইয়ে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানির সঙ্গে বৈঠক করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার রাতে মুম্বইয়ের অ্যান্টিলিয়ায় আম্বানি পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন তিনি। শিল্প বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং পশ্চিমবঙ্গের সম্ভাবনা নিয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।শুধু শিল্প বিনিয়োগই নয়, বৈঠক থেকে উঠে এসেছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা। গুজরাটের পর পশ্চিমবঙ্গেও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও চিকিৎসার জন্য রিলায়েন্সের উদ্যোগে বনতারার একটি শাখা তৈরি হতে পারে বলে সূত্রের খবর। বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও চিকিৎসা পরিকাঠামোয় এটি একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হতে পারে।মঙ্গলবার সকালে মুম্বই সফর এবং আম্বানি পরিবারের সঙ্গে বৈঠকের কথা নিজেই সমাজমাধ্যমে জানান মুখ্যমন্ত্রী। অ্যান্টিলিয়ায় আম্বানি পরিবারের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তের একাধিক ছবিও নিজের এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করেন তিনি।পোস্টে শুভেন্দু লেখেন, সোমবার মুম্বইয়ে বিশিষ্ট শিল্পপতি তথা রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানির সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছে। সেখানে গণেশের পুজোয় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি দেশবাসীর সুখ ও শান্তির জন্য প্রার্থনা করার কথাও জানান তিনি। একইসঙ্গে আম্বানি পরিবারের হাতে মা কালীর একটি বিশেষ মূর্তি তুলে দিতে পেরে তিনি সৌভাগ্যবান বলেও উল্লেখ করেন।Yesterday I visited the residence of renowned Industrialist and Chairman of Reliance Industries, Shri Mukesh Ambani Ji, in Mumbai.Had the divine privilege of offering prayers before Lord Ganesha, seeking His supreme blessings for the peace, progress and prosperity of our Nation. pic.twitter.com/PyVdZuvAy3 Suvendu Adhikari (@SuvenduWB) September 22, 2026শিল্প সংক্রান্ত আলোচনার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, পশ্চিমবঙ্গে শিল্পের অগ্রগতি ও সম্ভাবনা নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। কর্মসংস্থানের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। রাজ্যের যুব সমাজের দক্ষতা ও শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব বলেও আম্বানিদের সামনে তিনি তুলে ধরেছেন বলে জানান শুভেন্দু।মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, বাংলায় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শিল্পপতিরা এগিয়ে এলে রাজ্য সরকার স্বাগত জানাবে। আম্বানি পরিবারের সঙ্গে এই বৈঠক এবং রিলায়েন্সের আরও বিনিয়োগের সম্ভাবনাকে ঘিরে তাই নতুন করে আশার আলো দেখছে শিল্পমহল।পাশাপাশি, পশ্চিমবঙ্গে বনতারার সম্ভাব্য সম্প্রসারণের বিষয়টি সামনে আসায় বৈঠকের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। বন্যপ্রাণী উদ্ধার, সংরক্ষণ ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই ধরনের উদ্যোগ রাজ্যের পরিকাঠামোকে কতটা বদলাতে পারে, এখন সেদিকেই নজর।

সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬
রাজ্য

১৮-র আগেই মা—বর্ধমানে দুই নাবালিকার ঘটনায় গ্রেফতার স্বামী, পকসো-সহ একাধিক ধারায় মামলা

বর্ধমান: বাল্যবিবাহ এবং নাবালিকাদের গর্ভধারণ রুখতে প্রশাসনিক কড়াকড়ির মধ্যেই পূর্ব বর্ধমানে পরপর দুই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল। ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই দুই নাবালিকা গর্ভবতী হয়ে পড়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে পৃথক দুই মামলায় তাদের স্বামীদের গ্রেফতার করেছে ভাতার ও রায়না থানার পুলিশ। দুটি ঘটনাতেই পকসো আইন, বাল্যবিবাহ রোধক আইন এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।সম্প্রতি বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ১৮ বছরের আগে কোনও মেয়ের সন্তান হলে সংশ্লিষ্ট স্বামীর বিরুদ্ধে পকসো আইনে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করার কথা বলা হয়েছিল। সেই ঘোষণার পরেই পূর্ব বর্ধমানে নাবালিকার গর্ভধারণকে ঘিরে পরপর দুই মামলায় পুলিশের সক্রিয়তায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে বাল্যবিবাহ ও নাবালিকাদের সুরক্ষার বিষয়টি।পুলিশ সূত্রে খবর, প্রথম ঘটনাটি ভাতার থানা এলাকার। স্থানীয় বাসিন্দা ১৪ বছরের এক কিশোরী গর্ভবতী অবস্থায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বর্ধমান থানার নজরে আনে। এরপর নিয়ম মেনে জিরো এফআইআর দায়ের করে অভিযোগটি তদন্তের জন্য ভাতার থানায় পাঠানো হয়।অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু করে ভাতার থানার পুলিশ। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কিশোরীর বয়ানও নথিভুক্ত করা হয়। তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার সকালে ভাতার থানা এলাকার একটি বাড়ি থেকে কিশোরীর স্বামীকে গ্রেফতার করেন তদন্তকারীরা। নাবালিকার বয়স এবং গর্ভধারণের বিষয়টি সামনে আসার পরই তাঁর বিরুদ্ধে পকসো-সহ একাধিক আইনে মামলা করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।দ্বিতীয় ঘটনাটি রায়না থানা এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, গত ৮ সেপ্টেম্বর হুগলির তারকেশ্বরের একটি হাসপাতালে এক নাবালিকা পুত্রসন্তানের জন্ম দেয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নাবালিকার বিয়ে এবং গর্ভধারণের বিষয়টি জানতে পেরে তা তারকেশ্বর থানাকে জানায়। সেখানেও জিরো এফআইআর দায়ের করে অভিযোগটি তদন্তের জন্য রায়না থানায় পাঠানো হয়।মামলার তদন্তভার হাতে নিয়ে রায়না থানার পুলিশ সংশ্লিষ্ট নাবালিকার বিয়ে এবং গর্ভধারণ সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখে। তদন্তের পর সোমবার ভোররাতে দেরিয়াপুরে অভিযুক্তের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁর স্বামীকে গ্রেফতার করা হয়।দুটি মামলাতেই তদন্তকারীরা নাবালিকাদের বয়স, বিয়ের পরিস্থিতি এবং গর্ভধারণের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করছেন। পাশাপাশি অভিযুক্তদের মেডিক্যাল পরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে বলে আদালতের কাছে আবেদন জানানো হয়।সোমবার দুই অভিযুক্তকেই বর্ধমানের পকসো আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তকারী আধিকারিকদের আবেদনের ভিত্তিতে ধৃতদের মেডিক্যাল পরীক্ষার অনুমতি দেয় আদালত। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক স্টেট মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন পকসো আদালতের বিচারক দেবশ্রী হালদার।আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ভাতারের ঘটনায় ধৃতকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। আগামী ৩ অক্টোবর তাঁকে ফের আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে রায়নার ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তকেও বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। তাঁকে আগামী ১ অক্টোবর আদালতে পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।পরপর দুই ঘটনায় নাবালিকাদের সুরক্ষা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং পকসো আইনের প্রয়োগ নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশি তদন্তে বিয়ের প্রকৃতি, নাবালিকার বয়স এবং ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য তথ্য আরও স্পষ্ট হবে। আপাতত দুই মামলাতেই তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬
কলকাতা

১৩ বছর পর ফের খুলবে মহাকরণের দরজা? মুখ্যমন্ত্রীর ঘর তৈরির কাজ শেষের পথে

পুজোর আর বেশি দিন বাকি নেই। তার আগেই রাজ্য প্রশাসনের ঠিকানায় বড় বদলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ ১৩ বছর পর ফের মহাকরণ থেকে প্রশাসনিক কাজ শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। পূর্ত দফতর সূত্রে খবর, আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী-সহ ছয় মন্ত্রীর ঘর তৈরির কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।মহাকরণে মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ের কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি মুখ্যসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি-সহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েক জন আমলার জন্যও ঘর তৈরির কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ফলে পুজোর আগেই মহাকরণে প্রশাসনিক কাজকর্মের একটি বড় অংশ শুরু হতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।মহাকরণে সংস্কারের কাজ কতটা এগিয়েছে, তা নিয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দার। সূত্রের খবর, বৈঠকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ১০ অক্টোবরের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর ঘর এবং আরও পাঁচ মন্ত্রীর ঘর প্রস্তুত করার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে।প্রাথমিক ভাবে যে তালিকা সামনে এসেছে, তাতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, শঙ্কর ঘোষ, শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং অজয় পোদ্দারের জন্য মহাকরণে ঘর তৈরির কাজ চলছে। মহাকরণের তৃতীয় তলায় মুখ্যমন্ত্রী-সহ মন্ত্রীদের বসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।শুধু মন্ত্রীদের ঘর নয়, প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিকদের জন্যও মহাকরণে জায়গা প্রস্তুত করা হচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ফের ঐতিহ্যবাহী এই ভবন থেকে পরিচালিত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।মহাকরণ সংস্কারের সামগ্রিক দায়িত্ব আদানি গোষ্ঠীর হাতে দেওয়া হতে পারে বলেও জল্পনা রয়েছে। তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং কী ভাবে সংস্কারের কাজ এগোবে, তা নিয়ে এখনও বিস্তারিত প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গিয়েছে।মহাকরণের সঙ্গে রাজ্যের প্রশাসনিক ইতিহাসের সম্পর্ক দীর্ঘ দিনের। ২০১৩ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সময়ে রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক দফতর মহাকরণ থেকে নবান্নে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ব্রিটিশ আমলে তৈরি এই ঐতিহাসিক ভবনের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েই সেই সময় প্রশাসনের মূল কেন্দ্র সরানো হয়েছিল।এর পর দীর্ঘ সময় ধরে মহাকরণ সংস্কারের কাজ চললেও তা সম্পূর্ণ হয়নি। সাম্প্রতিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ১৩ বছর পরেও সংস্কারের একটি বড় অংশ অসম্পূর্ণ রয়েছে।২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর মহাকরণকে ফের প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা সামনে আসে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শপথ নেওয়ার পর থেকেই মহাকরণে তাঁর জন্য ঘর তৈরির প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল।এখন সেই প্রস্তুতিতেই আরও গতি এসেছে। ১০ অক্টোবরের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ঘরগুলির কাজ শেষ করার লক্ষ্য নেওয়ায় প্রশ্ন উঠছে, পুজোর আগেই কি নবান্নের বদলে মহাকরণ থেকে প্রশাসনিক কাজ শুরু করবেন মুখ্যমন্ত্রী? আপাতত সেই দিকেই নজর রয়েছে।মহাকরণে মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ের কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার পর মন্ত্রী ও আমলাদের ঘর তৈরির কাজও দ্রুত এগোচ্ছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হলে বহু বছর পর ফের মহাকরণে রাজ্য প্রশাসনের ব্যস্ততা দেখা যেতে পারে।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
কলকাতা

নিজের এক মাসের বেতন দেবেন শুভেন্দু! নেপালে নিখোঁজ পরিবারের জন্য মানবিক সিদ্ধান্ত

নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানের পর এখনও নিখোঁজ বাংলার ৩৭ জন। তাঁদের পরিবারের উদ্বেগের মধ্যেই পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। বুধবার নবান্নে নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সূত্রের খবর, আর্থিক সঙ্কটে থাকা একটি পরিবারকে নিজের চলতি মাসের এক মাসের বেতন দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন তিনি।নিখোঁজদের পরিবারের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত খোঁজ নেন মুখ্যমন্ত্রী। কোনও পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য নিখোঁজ। আবার কোনও পরিবারের সংসার চালানো রাজমিস্ত্রিও এখনও বাড়ি ফেরেননি। ফলে নিখোঁজের যন্ত্রণা ছাড়াও বহু পরিবারকে এখন তীব্র আর্থিক সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে নিখোঁজদের পরিবারগুলির জন্য স্বল্পমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদিদুই ধরনের সহায়তা পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিবারের বর্তমান প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে তাঁরা যাতে আর্থিক ভাবে সমস্যায় না পড়েন, সেই বিষয়টিও পরিকল্পনায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।রোজগেরে সদস্য নিখোঁজ হওয়ায় যে পরিবারগুলি চরম আর্থিক সঙ্কটে পড়েছে, তাঁদের চাকরির ব্যবস্থা করা যায় কি না, সেই বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ফলে নিখোঁজদের পরিবারগুলির জন্য শুধু তাৎক্ষণিক আর্থিক সাহায্য নয়, দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।পরিবারগুলির সঙ্গে প্রশাসনের যোগাযোগ আরও সহজ করতে বিশেষ একটি বার্তা আদানপ্রদানের গোষ্ঠী তৈরির নির্দেশও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে প্রতিটি নিখোঁজের পরিবারের এক জন সদস্যের পাশাপাশি এক জন নাগরিক স্বেচ্ছাসেবক এবং এক জন পুলিশকর্মীকে যুক্ত রাখার কথা বলা হয়েছে।কোনও পরিবারের কোনও সমস্যা হলে যাতে দ্রুত প্রশাসনের কাছে তা পৌঁছে যায়, সেই ব্যবস্থাই এই গোষ্ঠীর মাধ্যমে করার পরিকল্পনা। নিখোঁজদের পরিবার এবং প্রশাসনের মধ্যে যোগাযোগে যাতে কোনও ফাঁক না থাকে, সেই বিষয়েও জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।গত ২৬ অগাস্ট নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানের পর রাজ্যের ৩৯ জনের নিখোঁজ হওয়ার খবর সামনে এসেছিল। পরে বসিরহাটের দুজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এখনও ৩৭ জনের সন্ধান মেলেনি বলে জানা গিয়েছে।নিখোঁজদের মধ্যে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় যাওয়া কলকাতা, চন্দননগর এবং বর্ধমানের দলের ৩০ জন পুণ্যার্থী রয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে যাওয়া ভ্রমণ সংস্থার দুজন কর্মীরও এখনও খোঁজ নেই।নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যেরা গতকালই ফের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছিলেন। তার পরেই বুধবার নবান্নে তাঁদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই বৈঠকের পর আর্থিক সাহায্য, চাকরির সম্ভাবনা এবং প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক পদক্ষেপের কথা জানানো হয়েছে।নেপালে নিখোঁজ বাংলার ৩৭ জনের এখনও সন্ধান না মেলায় উৎকণ্ঠা কাটেনি পরিবারগুলির। তাঁদের প্রিয়জনেরা কবে ফিরবেন, সেই অপেক্ষার মধ্যেই অন্তত পরিবারগুলির আর্থিক ও প্রশাসনিক সমস্যাগুলি কিছুটা কমাতে রাজ্যের এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, এখন সে দিকেই নজর।

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
কলকাতা

বামেদের নবান্নে ডেকে পুষ্পাঞ্জলির আমন্ত্রণ! গণেশ পুজোর মঞ্চে শুভেন্দুর বিস্ফোরক বার্তা

গণেশ পুজোর সূচনা করে বামেদের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ধর্মকে আফিং বলা এবং নিজেদের নাস্তিক বলে পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে কোনও উপদেশ নেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে বাগেশ্বর বাবা বিতর্ক, পুজোকে শারদোৎসব বলা নিয়ে বিতর্ক এবং গণেশ পুজোর বিস্তারসবকিছু নিয়েই নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন শুভেন্দু।সোমবার গণেশ পুজোর সূচনা করে শুভেন্দু বলেন, সনাতন ধর্মের রীতিনীতি নিয়ে বাইরের কারও কাছ থেকে উপদেশ নেওয়ার প্রয়োজন নেই। তাঁর বক্তব্য, কোনও দিন নিরামিষ খাবার দিয়ে পুজো হয়, আবার কোনও দিন মাছ দিয়ে দেবতাকে ভোগ দেওয়া হয়। সনাতন ধর্মের মানুষ কোন পুজোয় কী নিয়ম মানবেন, তা তাঁরা নিজেরাই জানেন।বাগেশ্বর বাবা বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, পুজোর পদ্ধতি, পুজোর পাঠ এবং পঞ্জিকার নিয়ম বদলে একসময় ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের রূপ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, প্রাদেশিকতার নামে মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরির চেষ্টা হয়েছিল।এর আগে বালিগঞ্জে ভারত সেবাশ্রম সংঘের পুজোর সূচনা করেন শুভেন্দু। সেখানেও পুজো এবং শারদোৎসব নিয়ে চলা বিতর্কের প্রসঙ্গ ওঠে। কমিউনিস্ট নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যাঁদের পুজো নিয়ে আপত্তি রয়েছে, তাঁরা নবান্নে এসে তাঁর সঙ্গে বিশ্বকর্মা পুজোয় পুষ্পাঞ্জলি দিতে পারেন।শুভেন্দুর বক্তব্য, তিনি বিশ্বকর্মা পুজোর দিন নবান্নে পুষ্পাঞ্জলি দেবেন। কমিউনিস্ট নেতাদেরও সেখানে এসে একসঙ্গে পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর কটাক্ষ, তাতে তাঁরাও পরিবর্তনের স্বাদ পাবেন।পুজোর নাম নিয়ে যে বিতর্ক চলছে, তার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে পুজোকে ধর্মীয় অনুষ্ঠান না কি বৃহত্তর সাংস্কৃতিক উৎসব হিসাবে দেখা হবে, তা নিয়ে যে রাজনৈতিক তরজা চলছে, সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে তাঁর বক্তব্য।এ দিন বামেদের আক্রমণ করার পাশাপাশি আগের সরকারের আমলে পিতৃপক্ষে দুর্গাপুজোর সূচনা নিয়েও কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। তাঁর মন্তব্য, পিতৃপক্ষে কাঁচি নিয়ে বের হওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই।দেশবিরোধী শক্তি নিয়েও এ দিন সতর্ক করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, অসুরদের থেকে সাবধানে থাকতে হবে এবং তাঁদের থেকে দূরে থাকতে হবে। একই সঙ্গে দেশবিরোধী শক্তি এবং টুকরে টুকরে গ্যাং থেকেও দূরে থাকার বার্তা দেন তিনি।গণেশ পুজো কেন বাড়ছে, তা নিয়ে যাঁরা প্রশ্ন তুলছেন, তাঁদেরও এ দিন পাল্টা জবাব দেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, গণপতি পুজো শুধু মহারাষ্ট্রের বিষয় নয়। সনাতন ধর্মের ঐক্যের মধ্যেই এর বিস্তার রয়েছে।শুভেন্দুর দাবি, একসময় মারাঠি, গুজরাতি, বিহারি-সহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি প্রাচীর তুলে রাখা হয়েছিল। তাঁর কথায়, সেই প্রাচীর ভেঙে দেওয়া হয়েছে। গণেশ পুজোর বিস্তারকে তিনি সনাতনীদের ঐক্যের প্রতীক হিসাবেই তুলে ধরেন।গণেশ পুজোর সূচনা থেকে বাগেশ্বর বাবা বিতর্ক, পুজোর নাম নিয়ে রাজনৈতিক তরজা থেকে বামেদের নবান্নে পুষ্পাঞ্জলির আমন্ত্রণসব মিলিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর সোমবারের বক্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
কলকাতা

পুজোয় আমিষ নিয়ে বাগেশ্বরের মন্তব্য, এবার পাল্টা মুখ্যমন্ত্রী! বাঙালিদের নিয়ে কী বললেন?

পুজোর মরসুমে আমিষ ও নিরামিষ খাবার নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। বাঙালির খাদ্যাভ্যাস নিয়ে স্বঘোষিত ধর্মগুরু বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যের পর থেকেই এই নিয়ে জোর চর্চা চলছে। তার মধ্যেই শনিবার গণেশ পুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, বাঙালি জানে কখন নিরামিষ খেয়ে পুষ্পাঞ্জলি দিতে হয়, আবার মাছ দিয়ে প্রসাদ দেওয়ার রীতিও বাঙালির অজানা নয়।কয়েক দিন আগে হাওড়ার লিলুয়ায় এসেছিলেন ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী, যিনি বাগেশ্বর বাবা নামে পরিচিত। সেখানেই বাঙালির খাদ্যাভ্যাস নিয়ে একাধিক মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য ছিল, অনেকে পেঁয়াজ খান, মদ্যপান করেন, আবার নিজেদের ধার্মিকও বলেন। এমনকি পুজোর সময়ে আমিষ খাওয়া বন্ধ করার আবেদনও জানান তিনি। আমিষ খান এমন মানুষদের ধর্মীয় পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বাগেশ্বর বাবা। পাখণ্ডী শব্দ ব্যবহার করে তাঁদের ভেকধারী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।বাগেশ্বর বাবার এই বক্তব্য ঘিরেই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, একজন মানুষের ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাস নিয়ে অন্য কেউ কীভাবে নির্দেশ দিতে পারেন। বিতর্কের মধ্যেই স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো থেকে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যাও দেন বাগেশ্বর বাবা। তাঁর দাবি, তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, পুজোয় আমিষ খেতে বারণ করার তিনি কেউ নন। তাঁর আপত্তি বলিপ্রথা নিয়ে। তবে ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে মণ্ডপে মাছ-মাংস খেতে তিনি বারণ করেছেন বলেও জানান।এই পরিস্থিতিতেই শনিবার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গণেশ পুজোর অনুষ্ঠানের মঞ্চে তিনি বলেন, কয়েক দিন আগে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী লিলুয়ায় এসেছিলেন এবং তাঁকে দেখতে বহু মানুষের সমাগম হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গেই বাঙালির খাদ্যাভ্যাসের কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।তিনি বলেন, বাঙালি জানে কখন নিরামিষ খেয়ে পুষ্পাঞ্জলি দিতে হয়। আবার মাছ দিয়ে প্রসাদ দেওয়ার রীতিও বাঙালির জানা। অর্থাৎ পুজোর সময়ে বাঙালির ধর্মীয় আচারের সঙ্গে খাদ্যাভ্যাসের যে নিজস্ব রীতি রয়েছে, সেই দিকটিই তুলে ধরেন তিনি।বাগেশ্বর বাবার আমিষ সংক্রান্ত মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যদিও বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, লকেট চট্টোপাধ্যায় এবং অগ্নিমিত্রা পাল বাগেশ্বর বাবার বক্তব্যকে সমর্থন করেননি বলেই জানা গিয়েছে। ফলে পুজোর মরসুমে আমিষ ও নিরামিষ খাবার নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক এখন ধর্মীয় মত, বাঙালির সংস্কৃতি এবং ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাসএই তিনটি বিষয়কে ঘিরেই আরও জোরালো হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
কলকাতা

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার কংগ্রেস নেতা! বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ানোর অভিযোগে চাঞ্চল্য

বাগেশ্বর ধামের প্রধান ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী, যিনি বাগেশ্বর বাবা নামে পরিচিত, তাঁর ছবি পোড়ানোর অভিযোগে দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অতনু দাসকে গ্রেফতার করল পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে টালিগঞ্জের বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয় বলে কংগ্রেসের তরফে দাবি করা হয়েছে। ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেই বিধানসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুরে ছবি পোড়ানোর ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে দাবি।বিধানসভায় বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভবানীপুরে থানার সামনে কয়েক জনকে ছবি পোড়াতে দেখা গিয়েছে। তাঁদের গ্রেফতার করার জন্য তিনি কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দেন বলেও জানান। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল, এ রাজ্যে এই ধরনের ঘটনা চলতে পারে না। তাঁর সেই মন্তব্যের পরেই রাতে অতনু দাসকে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানা গিয়েছে।অতনু দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ানোর ঘটনায় তিনি জড়িত ছিলেন। তাঁকে গ্রেফতার করে ভবানীপুর থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এই গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে রাতেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়ায়।অন্য দিকে, কংগ্রেস নেতা প্রদীপ প্রসাদ এই গ্রেফতারির তীব্র প্রতিবাদ করেছেন। তাঁর দাবি, বাগেশ্বর বাবা বাংলার মানুষকে পাখণ্ডী বলে অপমান করেছেন। তাঁর বক্তব্য, বাংলার মানুষের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদেরই এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা উচিত ছিল। কিন্তু প্রতিবাদ করার কারণে কংগ্রেস নেতাদের বিরুদ্ধেই মামলা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।প্রদীপ প্রসাদ আরও দাবি করেন, এর আগেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের কুশপুতুল পোড়ানো হয়েছে। কিন্তু সেই ঘটনাগুলিতে মামলা বা গ্রেফতারির মতো পদক্ষেপ হয়নি। তাঁর বক্তব্য, একসময় জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, অটল বিহারী বাজপেয়ী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কুশপুতুল পোড়ানো হলেও তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়নি।কংগ্রেস নেতার আরও দাবি, এখানে কুশপুতুল নয়, একটি ছবি পোড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। তাই এই ঘটনায় এত দ্রুত গ্রেফতারি কেন হল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর কথায়, বাঙালির অসম্মানের প্রতিবাদ করতে গিয়ে যদি গ্রেফতার হতে হয়, তাতেও তাঁরা পিছিয়ে যাবেন না।ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদল এবং কংগ্রেসের মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এক দিকে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতারি, অন্য দিকে কংগ্রেসের পাল্টা অভিযোগসব মিলিয়ে বাগেশ্বর বাবাকে ঘিরে বিতর্ক নতুন মাত্রা পেল। তবে ছবি পোড়ানোর ঘটনায় অতনু দাসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং তাঁর ভূমিকা নিয়ে তদন্ত এখনও চলছে।

সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
কলকাতা

আমিষ বিতর্কে এবার সরাসরি জবাব? কালীঘাটে মাছের ভোগ খেলেন মুখ্যমন্ত্রী, বললেন এই কথা

কৌশিকী অমাবস্যায় কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিতে গিয়ে আমিষ বিতর্ক নিয়ে নিজের অবস্থান আরও স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মন্দিরে পুজো দেওয়ার পর মায়ের ভোগ গ্রহণ করেন তিনি। মাটিতে বসে বাসন্তি পোলাওয়ের সঙ্গে মাছের মাথা ও মাছ ভাজা খান মুখ্যমন্ত্রী। এরপর বাগেশ্বর বাবার মন্তব্য প্রসঙ্গে নিজের বক্তব্য জানান তিনি।এদিন কালীঘাট মন্দিরে জবার মালা এবং লাল বেনারসি শাড়ি দিয়ে মা কালীর পুজো দেন মুখ্যমন্ত্রী। মায়ের পা ধুয়ে অঞ্জলি দেওয়ার পর আরতিও করেন। পুজো শেষে মন্দিরের ভিতরেই মাটিতে বসে ভোগ গ্রহণ করেন তিনি। সেই ভোগের তালিকায় ছিল মাছের মাথা, মাছ ভাজা এবং বাসন্তি পোলাও। ভোগ খাওয়ার পর মন্দির চত্বরে উপস্থিত ভক্তদের মধ্যে প্রসাদও বিতরণ করেন মুখ্যমন্ত্রী।পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মা যেন তাঁকে শক্তি দেন এবং দেশবিরোধী শক্তিকে রাজ্য থেকে দূর করতে পারেন। দুর্গাপুজোয় আমিষ খাওয়া নিয়ে বাগেশ্বর বাবার মন্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজন সন্ত নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন। যাঁর সেই মত গ্রহণ করার, তিনি করবেন, আর যাঁর গ্রহণ করার নয়, তিনি করবেন না।নিজের খাদ্যাভ্যাসের কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, অষ্টমীর দিন তিনি সাত্ত্বিক আহার করেন। কার্তিক মাসেও সাত্ত্বিক আহার গ্রহণ করেন। আবার মায়ের মাছের ভোগও গ্রহণ করেন এবং পাঠার বলির প্রসাদও খান। কালীঘাট মন্দিরে এদিন যে ভোগ দেওয়া হয়েছিল, তার মধ্যে মাছের মাথা, মাছ ভাজা এবং বাসন্তি পোলাও ছিল বলেও জানান তিনি।মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, সনাতন সংস্কৃতি জাগ্রত থাকবে এবং গেরুয়া ধ্বজ সবসময় উপরে থাকবে। কখনও তা নিচে নামবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বাগেশ্বর বাবার মন্তব্য নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্যেই কালীঘাটে মাছের ভোগ গ্রহণ এবং তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।সম্প্রতি দুর্গাপুজোর আগে পশ্চিমবঙ্গে এসে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী, যিনি বাগেশ্বর বাবা নামে পরিচিত। দুর্গাপুজোয় আমিষ খাওয়ার বিরোধিতা করে তিনি মন্তব্য করেন, যাঁরা পুজোর সময়ে আমিষ খান, তাঁরা পাখণ্ডী বা ভণ্ড। পুজোর সময়ে আমিষ খাবার ত্যাগ করার পরামর্শও দেন তিনি। তাঁর এই মন্তব্যের পরেই বাংলায় শুরু হয় তীব্র বিতর্ক।বাগেশ্বর বাবার এই মন্তব্যের সঙ্গে একমত নয় বিজেপির একাংশও। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন, বাইরের কোনও সাধুর পরামর্শে বাঙালির সংস্কৃতি বা খাদ্যাভ্যাস বদলে যাবে না। আমিষ খাওয়া নিয়েও একই অবস্থানের কথা জানিয়েছেন বিজেপির আরও কয়েক জন নেতা।দুর্গাপুজোয় আমিষ খাবার নিয়ে বিতর্কের আবহেই এবার কালীঘাট মন্দিরে মাছের ভোগ গ্রহণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি বাগেশ্বর বাবার বক্তব্য নিয়ে তাঁর মন্তব্য, যাঁর গ্রহণ করার করবেন, না করার করবেন নাএই বার্তাও নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
কলকাতা

দুর্গাপুজোয় আমিষ বিতর্কে বাগেশ্বর বাবার পাশে মুখ্যমন্ত্রী! বিধানসভায় দিলেন বড় বার্তা

দুর্গাপুজোয় আমিষ খাওয়া নিয়ে বাগেশ্বর বাবার মন্তব্য ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার আঁচ এবার পৌঁছল বিধানসভায়। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বাগেশ্বর বাবার প্রসঙ্গ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, কেউ কোনও সন্তের কথা গ্রহণ করবেন কি না, তা ব্যক্তিগত বিষয়। তবে ওই সন্ত কারও উপর নিজের মত চাপিয়ে দিতে চাননি বলেই দাবি করেন তিনি।বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, লিলুয়ায় একজন সন্ত এসেছিলেন। তিনি দেশপ্রেম, রাষ্ট্রবাদ এবং অখণ্ড ভারতের কথা বলেছেন। নিজের মতো করে ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির কথাও বলেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, যাঁর সেই বক্তব্য গ্রহণ করার, তিনি গ্রহণ করবেন, আর যাঁর গ্রহণ করার নয়, তিনি করবেন না। তাঁর দাবি, ওই সন্ত কারও উপর কোনও কিছু চাপিয়ে দিতে চাননি।সম্প্রতি লিলুয়ায় একটি ধর্মীয় সভায় যোগ দিয়েছিলেন মধ্যপ্রদেশের ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী, যিনি বাগেশ্বর বাবা নামে পরিচিত। পশ্চিমবঙ্গে অনুষ্ঠানে এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদও জানিয়েছিলেন তিনি। তবে দুর্গাপুজোয় আমিষ খাবার নিয়ে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর মন্তব্যের পরেই শুরু হয় বিতর্ক।দুর্গাপুজোর সময়ে আমিষ খাওয়ার বিরোধিতা করে বাগেশ্বর বাবার মন্তব্য নিয়ে বাংলায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয় চাপানউতোর। কংগ্রেসের তরফে ভবানীপুরে বিক্ষোভ দেখানো হয়। অভিযোগ, কংগ্রেস ও যুব কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকেরা ভবানীপুর থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন এবং বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ান। তাঁর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয় বলে দাবি।বিধানসভায় সেই প্রসঙ্গও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। ভবানীপুর থানার সামনে বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ানোর ঘটনা নিয়ে তিনি কড়া মনোভাব প্রকাশ করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি কয়েক জনকে ভবানীপুর থানার সামনে ছবি পোড়াতে দেখেছেন। কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে উদ্দেশ করে তাঁদের গ্রেফতারের দাবি জানান তিনি। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, এ রাজ্যে এই ধরনের ঘটনা চলবে না।দুর্গাপুজোয় আমিষ খাওয়া নিয়ে বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যের বিরোধিতা যেমন হয়েছে, তেমনই তাঁর বক্তব্যের সমর্থনেও রাজনৈতিক মহলে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে মূলত নিজের মত গ্রহণ বা না গ্রহণ করার বিষয়টিকেই সামনে আনা হয়েছে। তাঁর দাবি, কোনও সন্তের বক্তব্য ভালো না লাগলে তা গ্রহণ না করার অধিকার মানুষের রয়েছে, কিন্তু সেই কারণে তাঁর ছবি পোড়ানো বা অন্য কোনও পদক্ষেপ করা উচিত নয়।এদিন বামেদেরও নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের বিরুদ্ধে তোষণের রাজনীতি করার অভিযোগ তুলে তিনি কটাক্ষ করেন। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, সেই রাজনীতির কারণেই বামেদের রাজনৈতিক শক্তি কমেছে। একইসঙ্গে তিনি নিজের দলের বিধায়ক সংখ্যার প্রসঙ্গও টেনে আনেন এবং আগামী দিনে উপনির্বাচনের পর পরিস্থিতি আরও বদলাতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন।দুর্গাপুজোয় আমিষ খাবার নিয়ে বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্ক তাই ধর্মীয় বিষয় ছাড়িয়ে রাজনৈতিক বিতর্কেও পরিণত হয়েছে। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পর সেই বিতর্ক আরও নতুন মাত্রা পেল।

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
কলকাতা

বামেদের পুজোর বইয়ের স্টলে এবার ‘দুর্গাপুজো’ লিখতেই হবে! বিধানসভা থেকে বড় বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

দুর্গাপুজোর সময় বামেদের বইয়ের স্টল নিয়ে এ বার কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, সনাতন ধর্ম বা গেরুয়া সংস্কৃতির বিরোধিতা করা হলে আগামী দিনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে পুজোর সময় মণ্ডপের বাইরে বামেদের বইয়ের স্টল নিয়েও আপত্তির কথা জানিয়েছেন তিনি।মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, দুর্গাপুজোর সময় কোনও বইয়ের স্টল করতে হলে সেখানে দুর্গাপুজো শব্দটি লেখা থাকা উচিত। শারদোৎসব লিখে স্টল করার বিষয়ে তিনি আপত্তি জানিয়েছেন। পুজো কমিটিগুলিকেও এই বিষয়ে সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছেন তিনি।বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, এক শ্রেণির অধ্যাপক এবং তথাকথিত বামপন্থীরা সনাতনীদের আক্রমণ করছেন। তাঁর দাবি, তাঁরা বেছে বেছে গেরুয়া সংস্কৃতিকে নিশানা করেন। পুজো কমিটিগুলির উদ্দেশে তিনি বলেন, কমিউনিস্টরা যে বইয়ের স্টল করেন, সেখানে দুর্গাপুজো না লিখে শারদোৎসব লেখা থাকলে সেই স্টল করতে দেওয়া উচিত নয়।এই মন্তব্য ঘিরেই নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। কারণ দীর্ঘদিন ধরেই দুর্গাপুজোকে শুধুমাত্র ধর্মীয় অনুষ্ঠান না বলে বাঙালির সার্বিক উৎসব হিসেবে তুলে ধরার প্রবণতা রয়েছে। বাম আমলে দুর্গাপুজোর বদলে শারদোৎসব শব্দের ব্যবহারও বাড়ে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি।২০১১ সালের আগে রাজ্যে পুজোর সময় বিভিন্ন মণ্ডপের বাইরে বামেদের বইয়ের স্টল বেশ পরিচিত ছবি ছিল। লাল কাপড়ে মোড়া সেই স্টলে মার্কসীয় সাহিত্য, বিভিন্ন পত্রিকা এবং রাজনৈতিক বই বিক্রি করা হত। পুজোর ভিড়কে কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করাই ছিল এই ধরনের স্টলের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে মনে করা হয়।তবে রাজনৈতিক পালাবদলের পর সেই ছবি অনেকটাই বদলে যায়। বর্তমানে অধিকাংশ পুজোমণ্ডপের বাইরে আগের মতো বড় আকারে বামেদের বইয়ের স্টল দেখা যায় না। কিছু নির্দিষ্ট জায়গায় এখনও এই ধরনের স্টল বসে। সেখানেই মার্কসীয় সাহিত্য এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক পত্রপত্রিকা বিক্রি করা হয়।বামেদের পুজোর বইয়ের স্টলের ইতিহাসও বেশ পুরনো। ১৯৫৪ সালে পার্ক সার্কাস এলাকায় মুজফ্ফর আহমেদের উদ্যোগে পুজোর সময় বইয়ের স্টল বসানোর সূচনা হয়েছিল বলে বাম শিবিরের তরফে জানানো হয়। সেই ঐতিহ্য এখনও কিছুটা ধরে রাখা হয়েছে। পার্ক সার্কাস-সহ কয়েকটি এলাকায় পুজোর সময় বামেদের বইয়ের স্টল দেখা যায়।মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য বই বিক্রির বিরোধিতা করেননি। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় হল, দুর্গাপুজোর সময় যে স্টল বসানো হচ্ছে, সেখানে দুর্গাপুজো শব্দটি ব্যবহার করতে হবে। অর্থাৎ পুজোকে শুধুমাত্র উৎসব হিসেবে দেখানোর পরিবর্তে তার ধর্মীয় পরিচয়কেও স্বীকার করতে হবেমুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে এমনই বার্তা উঠে এসেছে।এই মন্তব্যের পর দুর্গাপুজো, শারদোৎসব শব্দের ব্যবহার এবং পুজোর সময় বামেদের বইয়ের স্টলতিনটি বিষয়কে ঘিরেই নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। আগামী দিনে পুজোর সময় বইয়ের স্টল নিয়ে কোনও নতুন নিয়ম তৈরি হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
রাজ্য

পুজোর আগেই বড় ঘোষণা! আন্দোলনে নামার আগেই ২০ শতাংশ বোনাস চা শ্রমিকদের, বদলে গেল ডুয়ার্সের ছবি

পাহাড়, তরাই, ডুয়ার্স মিলিয়ে প্রায় ২৭৫টি চা বাগানের শ্রমিকদের জন্য পুজোর আগে বড় ঘোষণা হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, চা শ্রমিকদের ২০ শতাংশ হারে বোনাস দেওয়ার বিষয়ে নির্দেশিকা ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে প্রতি বছর পুজোর আগে বোনাসের দাবিতে যে আন্দোলনের ছবি দেখা যেত, এ বার তার আগেই স্বস্তি ফিরেছে শ্রমিকদের মধ্যে।চা শ্রমিকদের বোনাস নিয়ে প্রতি বছরই পুজোর আগে টানাপড়েন তৈরি হয়। কোথাও গেট মিটিং, কোথাও বিক্ষোভ, আবার কোথাও রাস্তা অবরোধ করে নিজেদের দাবি জানাতে দেখা যায় শ্রমিকদের। বোনাস ঘোষণা হওয়ার পরেও টাকা পাওয়া নিয়ে দেরি বা টালবাহানার অভিযোগ ওঠে বিভিন্ন সময়ে। ফলে পুজোর আগে বোনাস নিয়ে চা শ্রমিকদের মধ্যে একটা দুশ্চিন্তা থেকেই যায়।এ বার অবশ্য পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা। পুজো আসার বেশ কিছুটা আগেই ২০ শতাংশ বোনাসের ঘোষণা হয়েছে। ফলে আন্দোলনে নামার আগেই বোনাসের খবর পেয়ে স্বস্তি পেয়েছেন চা শ্রমিকেরা। পাহাড়, তরাই এবং ডুয়ার্স মিলিয়ে প্রায় ২৭৫টি চা বাগানে তিন লক্ষেরও বেশি শ্রমিক রয়েছেন বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।জলপাইগুড়ি জেলাতেও এই ঘোষণার প্রভাব পড়েছে। জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৯০টি চা বাগান রয়েছে। এই বাগানগুলির শ্রমিকদের কাছে পুজোর বোনাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বছরের এই সময় বোনাসের টাকাতেই বহু পরিবার পুজোর কেনাকাটা থেকে শুরু করে সংসারের নানা প্রয়োজন মেটায়।শ্রমিকদের একাংশ জানিয়েছেন, বোনাসের টাকা হাতে এলে সন্তানদের নতুন পোশাক কিনে দিতে পারবেন তাঁরা। নিজেদের জন্যও নতুন জামাকাপড় কেনার পাশাপাশি পুজোর কয়েক দিন পরিবারের জন্য ভালো খাবারের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে। অনেকের বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে মেরামতের প্রয়োজন রয়েছে। বোনাসের টাকা দিয়ে সেই কাজও সেরে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে অনেক পরিবারের।চা শ্রমিকদের বক্তব্য, প্রতি বছর পুজোর আগে বোনাসের জন্য আন্দোলন করতে হবে কি না, তা নিয়ে চিন্তা থাকত। এ বার আগেই ২০ শতাংশ বোনাসের ঘোষণা হওয়ায় সেই দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমেছে। আন্দোলনে নামার আগেই দাবি মিটতে চলায় খুশি তাঁরা।এর মধ্যেই চা শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার কালিম্পঙে প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক করার কথা ছিল। তবে খারাপ আবহাওয়ার কারণে তাঁর কপ্টার সেখানে নামতে পারেনি। পরে উত্তরকন্যা থেকে ভার্চুয়ালি প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা জানা গিয়েছে।সব মিলিয়ে পুজোর আগে ২০ শতাংশ বোনাসের ঘোষণা চা শ্রমিকদের কাছে বড় স্বস্তির খবর। বোনাসের টাকায় নতুন পোশাক কেনা, পুজোর বাজার করা, পরিবারের জন্য ভালো খাবারের ব্যবস্থা এবং ঘরদোর মেরামতের পরিকল্পনা করছেন অনেকেই। ফলে পুজোর আগে ডুয়ার্সের চা বাগানগুলিতে এ বার আন্দোলনের বদলে উৎসবের প্রস্তুতির ছবিই বেশি চোখে পড়ছে।

সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
কলকাতা

পুজোর আগে বড় সুখবর! প্যারাটিচার থেকে শিক্ষাবন্ধু, একসঙ্গে বহু কর্মীর বেতন বাড়াল রাজ্য

নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর একাধিক স্তরের কর্মীদের জন্য বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্যারাটিচার, শিক্ষাবন্ধু, বিশেষ শিক্ষাকর্মী, ম্যানেজমেন্ট কর্মী, এসএসকে ও এমএসকে-র সহায়ক কর্মী-সহ বিভিন্ন স্তরের কর্মীদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি বন সহায়ক এবং ফরেস্ট গার্ডদের পারিশ্রমিকও বাড়ানোর কথা জানানো হয়েছে।প্যারাটিচারদের বেতন প্রাথমিক এবং উচ্চ প্রাথমিক, দুই স্তরেই ৫ হাজার টাকা করে বাড়ছে। এত দিন প্রাথমিক স্তরের প্যারাটিচাররা মাসে ১১ হাজার ৯৪১ টাকা করে বেতন পেতেন। এবার তা বেড়ে হবে ১৬ হাজার ৯৪১ টাকা। উচ্চ প্রাথমিক স্তরের প্যারাটিচারদের বেতন ১৫ হাজার ৫২৩ টাকা থেকে বেড়ে হবে ২০ হাজার ৫২৩ টাকা। এই বেতন বৃদ্ধি ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।এই সিদ্ধান্তে প্রাথমিক স্তরের ২০ হাজার ৩৪৩ জন এবং উচ্চ প্রাথমিক স্তরের ২১ হাজার ৮৪৯ জন প্যারাটিচার উপকৃত হবেন। অর্থাৎ দুই স্তর মিলিয়ে বহু প্যারাটিচারের মাসিক আয় বাড়তে চলেছে।শিক্ষাবন্ধুদেরও ৫ হাজার টাকা করে বেতন বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে ২২৮০ জন শিক্ষাবন্ধু উপকৃত হবেন। বিশেষ শিক্ষাকর্মীদেরও ৫ হাজার টাকা করে বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে। তাঁদের ক্ষেত্রেও ১ নভেম্বর থেকে নতুন বেতন কার্যকর হবে।শুধু শিক্ষা ক্ষেত্রেই নয়, বন দফতরের কর্মীদের জন্যও ঘোষণা করা হয়েছে পারিশ্রমিক বৃদ্ধির কথা। বন সহায়কদের পারিশ্রমিক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফরেস্ট গার্ডদের পারিশ্রমিকও ৫ হাজার টাকা করে বাড়ছে। এই বৃদ্ধি ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।এছাড়াও ম্যানেজমেন্ট কর্মী, এসএসকের সহায়ক এবং এমএসকের সহায়ক কর্মীদের বেতনও ৫ হাজার টাকা করে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে বিভিন্ন স্তরে কাজ করা কর্মীদের একাংশের মাসিক আয় বাড়তে চলেছে।প্রাক্তন বিধায়কদের চিকিৎসা ভাতাও বাড়ানো হয়েছে। এই বর্ধিত ভাতা ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।এদিনের মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মীদের বদলি নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে পারস্পরিক বদলির জন্য বিধিবদ্ধ কাঠামো তৈরি করতে নতুন বিল আনা হবে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে সেই বিলে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে বিলটি বিধানসভায় পেশ করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।ফলে একদিকে বিভিন্ন স্তরের কর্মীদের বেতন ও পারিশ্রমিক বৃদ্ধির ঘোষণা, অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মীদের বদলির জন্য নতুন আইনি কাঠামোদুই ক্ষেত্রেই এদিন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
কলকাতা

বাল্যবিবাহ করলেই এবার কড়া শাস্তি! বাড়ি বাড়ি অভিযান, পুরোহিত-কাজিদের নিয়েও বড় বার্তা

পশ্চিমবঙ্গে বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে এবার আরও কড়া পদক্ষেপের পথে রাজ্য সরকার। বাল্যবিবাহের ঘটনা ঠেকাতে বাড়ি বাড়ি নজরদারি এবং অভিযান চালানোর কথা জানানো হয়েছে। নাবালিকার বিয়ে দেওয়া, বিয়েতে সাহায্য করা বা বিয়ে সম্পন্ন করার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে বাল্যবিবাহ নিয়ে কড়া অবস্থানের কথা জানান। তাঁর বক্তব্য, বাল্যবিবাহের মতো ঘটনা কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। যে পরিবার নাবালিকার বিয়ে দেবে, সেই বিয়ের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও প্রশাসনের নজরের বাইরে থাকবেন না।রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, যেসব ক্ষেত্রে নাবালিকা বধূর সন্ধান মিলেছে, সেই পরিবারের পাশাপাশি তাঁদের স্বামীদের কাছেও শোকজ নোটিস পাঠানো হতে পারে। স্ত্রী বিয়ের সময় ১৮ বছর বয়স পার করেছিলেন কি না, তা প্রমাণ করার জন্য প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে হবে।বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে স্কুলের শংসাপত্র, আধার কার্ড, জন্মের শংসাপত্র-সহ সরকারি নথি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানানো হয়েছে। বয়স সংক্রান্ত যথাযথ প্রমাণ দিতে না পারলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।শুধু বিয়ে দেওয়া পরিবার বা স্বামীর বিরুদ্ধেই নয়, বাল্যবিবাহ সম্পন্ন করার সঙ্গে যুক্ত পুরোহিত এবং কাজিদের নিয়েও কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, নাবালিকার বিয়েতে কেউ সাহায্য করলে তাঁর বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে আইন দেশে বহু বছর ধরেই রয়েছে। মেয়েদের ক্ষেত্রে ১৮ বছর এবং ছেলেদের ক্ষেত্রে ২১ বছরের আগে বিয়ে আইনত নিষিদ্ধ। বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন করার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।বাংলায় বাল্যবিবাহ রুখতে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সময় থেকেই সামাজিক আন্দোলন হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে দেশে একাধিক আইন করে এই প্রথা বন্ধ করার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু এখনও রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বাল্যবিবাহের অভিযোগ সামনে আসে। বিশেষ করে কিছু সীমান্তবর্তী ও গ্রামীণ এলাকায় এই সমস্যা নিয়ে প্রশাসনের উদ্বেগ রয়েছে।এবার সেই কারণেই বাড়ি বাড়ি নজরদারির উপর জোর দেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। কোনও পরিবারে নাবালিকার বিয়ে হয়েছে কি না, বিয়ের সময় তাঁর বয়স কত ছিল এবং বিয়ের সঙ্গে কারা যুক্ত ছিলেন, সেই সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখা হতে পারে।নাবালিকা বধূর সন্তান প্রসবের ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের নজর থাকবে বলে জানানো হয়েছে। হাসপাতালেও বয়স সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখা হতে পারে। নাবালিকার ক্ষেত্রে যৌন নির্যাতন বা শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ উঠলে শিশুদের সুরক্ষা সংক্রান্ত কঠোর আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।প্রশাসনের বার্তা, নাবালিকার বয়স ১৮ বছরের কম হলে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। বাল্যবিবাহের পাশাপাশি নাবালিকার উপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ থাকলে পৃথক ভাবেও আইনি পদক্ষেপ হতে পারে।ফলে রাজ্যে বাল্যবিবাহ রুখতে এবার নজরদারি আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাড়ি বাড়ি অভিযান, বয়সের নথি যাচাই এবং বাল্যবিবাহের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাএই তিন দিকেই জোর দেওয়া হচ্ছে। সরকারের এই পদক্ষেপে রাজ্যে বাল্যবিবাহের প্রবণতা কতটা কমে, এখন সেটাই দেখার।

সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • ...
  • 15
  • 16
  • ›

ট্রেন্ডিং

খেলার দুনিয়া

বিশ্বকাপের সূচি ঘোষণা, শুরুতেই অস্ট্রেলিয়া! তিন দিন পরেই ভারত-পাকিস্তান মহারণ

২০২৭ সালের পুরুষদের এক দিনের ক্রিকেট বিশ্বকাপের পূর্ণ সূচি ঘোষণা করল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবোয়ে এবং নামিবিয়ায় বসবে এবারের ক্রিকেটের মহাযজ্ঞ। প্রতিযোগিতা শুরু হবে ২ অক্টোবর এবং ফাইনাল হবে ২১ নভেম্বর। মোট ১৪টি দলকে নিয়ে হবে ৫৭টি ম্যাচ।এবারের বিশ্বকাপের শুরুটাই হবে অন্য রকম। ১৪টি দলের মধ্যে তিনটি দলকে নিয়ে প্রথমে হবে একটি বিশেষ সুপার সিরিজ। সেই পর্বের তিনটি ম্যাচ হবে ২, ৪ এবং ৬ অক্টোবর নামিবিয়ার উইন্ডহোকে। এই পর্বের শীর্ষে থাকা দল মূল গ্রুপ পর্বে জায়গা করে নেবে।এর পর ১২টি দলকে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হবে। প্রতিটি গ্রুপে থাকবে ছয়টি করে দল। ভারতের সঙ্গে একই গ্রুপে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, জিম্বাবোয়ে এবং একটি যোগ্যতা অর্জনকারী দল। অন্য গ্রুপে রয়েছে নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড, বাংলাদেশ এবং আরও একটি যোগ্যতা অর্জনকারী দল।ভারতের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে ৭ অক্টোবর। প্রথম ম্যাচেই অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে ভারত। ম্যাচটি হবে কেপটাউনে। ২০২৩ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালের পর আবারও বড় মঞ্চে মুখোমুখি হবে দুই দল।তার পরেই ক্রিকেটপ্রেমীদের বহু প্রতীক্ষিত ম্যাচ। ১০ অক্টোবর জোহানেসবার্গে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলবে ভারত। অর্থাৎ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শুরু হওয়ার মাত্র তিন দিনের মধ্যেই দেখা যাবে ভারত-পাকিস্তান মহারণ।ভারতের তৃতীয় ম্যাচ ১৪ অক্টোবর আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে। এই ম্যাচ হবে ত্শোয়ানে। এরপর ১৭ অক্টোবর যোগ্যতা অর্জনকারী একটি দলের বিরুদ্ধে খেলবে ভারত। গ্রুপ পর্বে ভারতের শেষ ম্যাচ ২৪ অক্টোবর জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে। এই ম্যাচটি হবে ভিক্টোরিয়া ফলসে।এবারের প্রতিযোগিতার সবচেয়ে বড় আকর্ষণগুলির একটি হল নতুন ফরম্যাট। গত কয়েকটি বিশ্বকাপের মতো সরাসরি একটি দীর্ঘ গ্রুপ পর্বের পর সেমিফাইনালে যাওয়ার ব্যবস্থা থাকছে না। প্রথমে হবে তিন দলের সুপার সিরিজ। তার পর ১২ দলের গ্রুপ পর্ব এবং শেষে সাত দলের সুপার সেভেন পর্ব।দুই গ্রুপের প্রথম তিনটি করে দল সরাসরি সুপার সেভেনে যাবে। পাশাপাশি দুই গ্রুপের চতুর্থ স্থানে থাকা দলগুলির মধ্যে যে দল তুলনামূলক ভাবে এগিয়ে থাকবে, সেই দলও পরের পর্বে জায়গা পাবে। ফলে গ্রুপ পর্বে প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্ব অনেকটাই বেড়ে যাচ্ছে।সুপার সেভেনে মোট সাতটি দল একে অপরের বিরুদ্ধে খেলবে। এই পর্বে গ্রুপ পর্বের কোনও পয়েন্ট বহন করা হবে না। ২৫ অক্টোবর থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে সুপার সেভেনের ম্যাচগুলি। এই পর্ব শেষে পয়েন্ট তালিকার প্রথম চারটি দল সেমিফাইনালে উঠবে।সেমিফাইনাল হবে ১৭ এবং ১৮ নভেম্বর। প্রথম সেমিফাইনাল হবে কেপটাউনে এবং দ্বিতীয় সেমিফাইনাল ত্শোয়ানে। ২১ নভেম্বর জোহানেসবার্গে হবে বিশ্বকাপের ফাইনাল। প্রয়োজনে ২২ নভেম্বর রাখা হয়েছে ফাইনালের সংরক্ষিত দিন।এবারের বিশ্বকাপ যৌথ ভাবে আয়োজন করবে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবোয়ে এবং নামিবিয়া। মোট ১২টি মাঠে হবে ৫৭টি ম্যাচ। আফ্রিকার মাটিতে ২৪ বছর পর ফিরছে পুরুষদের এক দিনের বিশ্বকাপ।সব মিলিয়ে ভারতের জন্য বিশ্বকাপের শুরুতেই অপেক্ষা করছে অস্ট্রেলিয়া এবং পাকিস্তানের মতো বড় প্রতিপক্ষ। তার পর আফগানিস্তান, একটি যোগ্যতা অর্জনকারী দল এবং জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের লড়াই। নতুন ফরম্যাটে প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্ব থাকায় শুরু থেকেই ভারতীয় দলের সামনে বড় পরীক্ষা হতে চলেছে।

অক্টোবর ০১, ২০২৬
বিদেশ

বিমানের ককপিটে কেন হামলা? স্মিত মচ্ছরকে ছুরিকাঘাতের নেপথ্যে কী, মুখ খুললেন নেতানিয়াহু

দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে মাঝ আকাশে ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, ককপিটের ভিতরে সহ-পাইলট ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের উপর হামলা করেন। হামলার জেরে বিমানটি আচমকা উচ্চতা হারাতে শুরু করে। পরে যাত্রী ও বিমানের কর্মীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়। বিমানে থাকা ১৭৪ জন যাত্রী নিরাপদে রক্ষা পান।ঘটনার পর ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরকে সাহসিকতার জন্য প্রশংসা করেছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তাঁর বক্তব্য, গুরুতর আহত অবস্থাতেও স্মিত ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এরপর যাত্রী ও বিমানের কর্মীরা হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করেন। এই ঘটনায় বড় ধরনের বিমান দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য।বৃহস্পতিবার হামলার নেপথ্যের কারণ নিয়ে মন্তব্য করেন নেতানিয়াহু। তাঁর দাবি, অভিযুক্ত সহ-পাইলট ইসলামপন্থী ও উগ্র মতাদর্শে দীক্ষিত ছিলেন। তবে তাঁকে কে বা কারা এই মতাদর্শে প্রভাবিত করেছিল, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও তথ্য তাঁর কাছে নেই বলেও জানান নেতানিয়াহু। কোনও নির্দিষ্ট সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সঙ্গে অভিযুক্তের যোগ রয়েছে কি না, সেটিও এখনও নিশ্চিত হয়নি।নেতানিয়াহু আরও জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্তে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবে ইজরায়েল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তকারীরা হামলার আসল কারণ এবং এর পিছনে কোনও পরিকল্পনা বা সংগঠিত যোগ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখবেন। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির কর্তৃপক্ষও ঘটনার পরিস্থিতি, উদ্দেশ্য এবং সম্ভাব্য সন্ত্রাসবাদী যোগের বিষয়ে তদন্তের কথা জানিয়েছে।ঘটনার সময় বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারিয়েছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৩৩ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে বিমানটি অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় ১৭ হাজার ফুটে নেমে যায়। এই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিমানের নিয়ন্ত্রণ ফেরানো সম্ভব হয় এবং তাবুকে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করা হয়।ঘটনার পর সৌদি আরবের কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে আটক করেছে বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে আহত স্মিত মচ্ছরকে তাবুকের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, তাঁর চিকিৎসা চলছে এবং প্রাথমিক ভাবে তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল বলে খবর পাওয়া গিয়েছে।এই ঘটনার সঙ্গে ৯/১১-এর মতো বিমান হামলার তুলনা করেছেন নেতানিয়াহু এবং অন্য কয়েক জন। তবে তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। হামলার উদ্দেশ্য, অভিযুক্তের মতাদর্শগত যোগ এবং ঘটনার আগে কোনও পরিকল্পনা ছিল কি নাএই প্রশ্নগুলির চূড়ান্ত উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি। তাই হামলাটিকে নির্দিষ্ট কোনও সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের পরিকল্পনা হিসেবে চিহ্নিত করার মতো পর্যাপ্ত সরকারি তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।ফ্লাইদুবাই জানিয়েছে, ঘটনার তদন্তে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করছে। ঘটনাটির পর ইজরায়েলগামী বিমানের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে ইজরায়েলে যাতায়াতকারী পাইলটদের পরিচয় ও নিরাপত্তা যাচাই আরও কঠোর করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।সব মিলিয়ে, মাঝ আকাশে ককপিটে হামলার ঘটনায় বড় ধরনের বিমান দুর্ঘটনা অল্পের জন্য এড়ানো গিয়েছে। ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের ভূমিকা নিয়ে প্রশংসা হলেও, হামলার আসল উদ্দেশ্য এবং এর পিছনে কারও সংগঠিত ভূমিকা ছিল কি না, তা এখনও তদন্তের বিষয়। তদন্ত শেষ হলেই গোটা ঘটনার প্রকৃত ছবি আরও স্পষ্ট হবে।

অক্টোবর ০১, ২০২৬
কলকাতা

পুজোর পাসের টাকা কোথায় গেল? ইডির জেরায় ইন্দ্রনীল, মমতার অ্যাকাউন্টে ৩০ লক্ষ পাঠানোর দাবি

দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো-এর পাস বিক্রিকে কেন্দ্র করে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। তদন্তের সূত্র ধরে তাঁর সংস্থা এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মধ্যে ৩০ লক্ষ টাকার লেনদেনের দাবি সামনে এনেছে ইডি। তবে ইন্দ্রনীল সেনের বক্তব্য, ওই টাকা রয়্যালটি হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। ফলে লেনদেনটির প্রকৃতি নিয়ে তদন্ত চলছে।ইডির দাবি, জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু হয়। অভিযোগের আওতায় রয়েছে ম্যাসআর্ট নামে একটি সংস্থা। এই সংস্থার সঙ্গে ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী মধুচ্ছন্দা সেন-সহ আরও কয়েক জনের নাম জড়িয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো এবং পাসের নামে কয়েক বছর ধরে বিপুল পরিমাণ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল। সেই অর্থের একটি অংশ ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের।তদন্তকারীদের আরও দাবি, ইন্দ্রনীলের ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলিকে প্রায় ৮৫ কোটি টাকার সরকারি কাজ বা টেন্ডার দেওয়া হয়েছিল। এই টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়মের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইডির বক্তব্য অনুযায়ী, ইন্দ্রনীলের মালিকানাধীন অক্টেভ রেকর্ডস-এর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩ কোটি ৮০ লক্ষ টাকারও বেশি জমা পড়েছিল। পরে ওই অ্যাকাউন্ট থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে ৩০ লক্ষ টাকা পাঠানো হয় বলে তদন্তকারীরা দাবি করেছেন।ওই ৩০ লক্ষ টাকার লেনদেন সম্পর্কে ইন্দ্রনীল সেনের বক্তব্যও প্রকাশ্যে এসেছে। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে পাঠানো টাকা রয়্যালটি বাবদ দেওয়া হয়েছিল। ফলে ওই অর্থের উৎস, কারণ এবং পুজোর পাসের টাকা সংক্রান্ত অভিযোগের সঙ্গে এর কোনও যোগ রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের অংশ হয়ে উঠেছে।এর আগে মঙ্গলবার ইন্দ্রনীল সেনের কসবার বাড়ি-সহ একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালায় ইডি। তাঁর আত্মীয় ও সহযোগীদের সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি ঠিকানাতেও অভিযান হয়। সিঙ্গুরে তাঁর বাগানবাড়িতেও তদন্তকারীরা পৌঁছেছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। প্রায় ১৫টি ঠিকানায় এই তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।তল্লাশি অভিযানের পর বুধবার সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হন ইন্দ্রনীল সেন। সেখানে তাঁকে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৯ থেকে ১০ ঘণ্টা ধরে তাঁর বক্তব্য নথিবদ্ধ করেন তদন্তকারীরা। পুজোর পাস, সংশ্লিষ্ট সংস্থার আর্থিক লেনদেন এবং বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে টাকার আদানপ্রদান নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।ইডির তদন্তে আরও অভিযোগ উঠেছে, দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শোয়ের পাস সংগ্রহের ক্ষেত্রে ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা তোলা হয়েছিল। এই অভিযোগের সত্যতা এবং ওই অর্থের পরবর্তী গতিপথ খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা। তবে তদন্ত এখনও চলছে এবং ইডির উত্থাপিত অভিযোগগুলি আদালতে প্রমাণিত হয়নি।এই মামলায় আগামী দিনে আরও কয়েক জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে তদন্তের গতিপ্রকৃতি থেকে ইঙ্গিত মিলছে। পুজোর পাস থেকে সংগৃহীত অর্থ কোথায় গিয়েছে, সরকারি টেন্ডারের সঙ্গে সেই অর্থের কোনও যোগ রয়েছে কি না এবং বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লেনদেনের প্রকৃতি কীএই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছে তদন্তকারীরা। এদিকে ইন্দ্রনীল সেনের বক্তব্য অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে পাঠানো ৩০ লক্ষ টাকা ছিল রয়্যালটি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই লেনদেন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সুযোগ নেই।

অক্টোবর ০১, ২০২৬
রাজ্য

‘সবাইকে নিয়ে আসুন, শুধু ব্যাগেজটা বাদ’! মমতাকে অধীরের বার্তা ঘিরে নতুন চর্চা

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কংগ্রেসে ফিরে আসার আহ্বান জানালেন অধীররঞ্জন চৌধুরী। বৃহস্পতিবার তাঁর বক্তব্য, মমতা তাঁর সঙ্গে থাকা সাংসদ ও বিধায়কদের নিয়ে কংগ্রেসে ফিরলে তাঁকে বাংলায় নেতৃত্ব দিতে আপত্তি নেই। তবে একই সঙ্গে তিনি ব্যাগেজ বাদ দিয়ে আসার কথা বলেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই ব্যাগেজ মন্তব্যকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।অধীরের বক্তব্যের আগে অবশ্য বাংলার রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থানে বেশ কিছু পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনে নিজের দলের প্রার্থীকে সরিয়ে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের কথা জানিয়েছিলেন মমতা। পরে দিল্লিতে বিরোধী জোটের বৈঠকেও তাঁকে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা যায়। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে কংগ্রেস ও মমতার সম্পর্ক নিয়ে তাই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।অধীর বলেন, মমতা তাঁর সমস্ত সাংসদ ও বিধায়ককে নিয়ে কংগ্রেসের ছাতার নিচে এলে তিনি সেই নেতৃত্ব মেনে নিতে প্রস্তুত। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কংগ্রেসের মতো বড় সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মমতা বাংলায় নেতৃত্ব দিলে তাঁর আপত্তি নেই। তবে মমতার সঙ্গে থাকা ব্যাগেজ বাদ দেওয়ার শর্তও তিনি উল্লেখ করেন।অধীরের এই বক্তব্যে স্বাভাবিকভাবেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ সামনে এসেছে। কারণ অতীতে অভিষেক ও অধীরের মধ্যে একাধিক রাজনৈতিক বিষয়ে প্রকাশ্য মতবিরোধ দেখা গিয়েছে। যদিও ব্যাগেজ বলতে অধীর নির্দিষ্ট করে কারও নাম করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্যের ওই অংশকে অভিষেককে ঘিরে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছে বিভিন্ন মহল।মমতার সঙ্গে কংগ্রেসের সম্পর্কের ইতিহাসও দীর্ঘ। তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের আগে মমতা দীর্ঘ সময় কংগ্রেসের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে পৃথক দল তৈরি করে তিনি বাংলার রাজনীতিতে নিজের রাজনৈতিক পরিসর তৈরি করেন। এখন আবার কংগ্রেসে ফেরার আহ্বান সামনে আসায় সেই পুরনো রাজনৈতিক সম্পর্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে।এই পরিস্থিতিতে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন করেছেন। মিলন প্রধানকে একটি পুরনো মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে কলকাতা হাইকোর্ট তাঁকে অন্তর্বর্তী জামিন দেয় এবং নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। সুপ্রিম কোর্টেও ওই জামিনের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের আবেদনের শুনানি হয়েছে।তবে অধীরের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক দলীয় সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি অধীররঞ্জন চৌধুরীর প্রকাশ্য রাজনৈতিক প্রস্তাব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূলের তরফে এই প্রস্তাব গ্রহণের কোনও সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে এসেছে কি না, সেটিও আলাদা বিষয়।অধীরের বক্তব্যের পর এখন নজর থাকবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের প্রতিক্রিয়ার দিকে। একই সঙ্গে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব এই প্রস্তাব নিয়ে কী অবস্থান নেয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে মমতা-কংগ্রেস সম্পর্কের এই নতুন অধ্যায় ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা আরও বাড়ছে।

অক্টোবর ০১, ২০২৬
রাজ্য

‘মৃত্যুকামনা করিনি’, শুভেন্দুর আক্রমণের পর সুর বদল হুমায়ুনের! রেজিনগরে তুঙ্গে তরজা

রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হয়েছে। হুমায়ুনের কয়েক দিন আগের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়। সেই মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে বৃহস্পতিবার রেজিনগরের প্রচারসভা থেকে তাঁকে কড়া আক্রমণ করেন শুভেন্দু অধিকারী। পাল্টা হুমায়ুন দাবি করেছেন, তিনি মুখ্যমন্ত্রীর মৃত্যুকামনা করেননি এবং তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।হুমায়ুন কবীরের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মৃত্যু চাননি। তাঁর দাবি, তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অত্যাচারের অবসানের কথা বলেছেন। তাঁর কথায়, যাঁরা একতরফাভাবে অত্যাচার ও জুলুম চালান, তাঁদের পতন ইতিহাসে বার বার দেখা গিয়েছে। ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তির ক্ষেত্রেও সেই কথা প্রযোজ্য বলে দাবি করেন তিনি।হুমায়ুন আরও দাবি করেন, তাঁর বক্তব্য বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে অন্য ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, তিনি কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যু চাননি। বরং রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন।এর আগে হুমায়ুনের বক্তব্য নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তাঁর বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রীকে দ্রুত পৃথিবী থেকে বিদায় নেওয়ার জন্য প্রার্থনার কথা উঠে আসে। সেই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে সমালোচনা শুরু হয় এবং তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগও দায়ের হয়েছিল।বৃহস্পতিবার রেজিনগরে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকারের সমর্থনে প্রচারে গিয়ে সেই বিতর্কের প্রসঙ্গ তোলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, রাজনৈতিক লড়াইয়ে মতবিরোধ, তর্ক এবং সমালোচনা থাকতেই পারে। কিন্তু কোনও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মৃত্যু কামনা করার মতো ভাষা ব্যবহার করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।শুভেন্দু আরও বলেন, হুমায়ুন যে ধরনের মন্তব্য করেছেন, তার বিচার রেজিনগরের মানুষের উপর ছেড়ে দিচ্ছেন। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক লড়াইয়ে শেষ কথা বলবেন ভোটাররাই। এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রেজিনগরের উপনির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে।হুমায়ুন অবশ্য শুভেন্দুর আক্রমণের জবাবে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেই পাল্টা অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, রাজ্যে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে কথা বললেই অত্যাচারের মুখে পড়তে হয়। নিজের আগের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, তিনি অত্যাচারীর পতনের কথা বলেছেন, কোনও ব্যক্তির মৃত্যুকামনা করেননি।রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে দুই নেতার এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। এক দিকে শুভেন্দু অধিকারী হুমায়ুনের আগের বক্তব্যকে সামনে রেখে ভোটারদের কাছে প্রশ্ন তুলেছেন, অন্য দিকে হুমায়ুন নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে মৃত্যুকামনার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।রেজিনগরে আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন হওয়ার কথা। ফলে ভোটের আগে এই বিতর্ক প্রচারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। শেষ পর্যন্ত এই রাজনৈতিক চাপানউতোর ভোটের প্রচারে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

অক্টোবর ০১, ২০২৬
কলকাতা

এত বছর চলল নমাজ, এখন নিরাপত্তার প্রশ্ন কেন? বিমানবন্দর মসজিদ মামলায় বড় সিদ্ধান্ত হাই কোর্টের

কলকাতা বিমানবন্দরের কাছে একটি মসজিদে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে নমাজ পড়ার ব্যবস্থা ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু গত ১১ জুলাই থেকে সেখানে নমাজ পড়া বন্ধ রয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মামলাকারীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ধর্মাচরণের অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা হয়। বৃহস্পতিবার মামলাটির শুনানিতে সওয়াল-জবাব হলেও আপাতত কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয়নি বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের একক বেঞ্চ।মামলাকারীর আইনজীবী কিশোর দত্ত আদালতে জানান, বিমানবন্দর সংলগ্ন ওই মসজিদে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ বছর ধরে নমাজ পড়া হয়ে আসছে। তাঁর দাবি, এত দীর্ঘ সময়ে সেখানে নমাজ পড়াকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাজনিত কোনও সমস্যা হয়নি। তাহলে এখন কেন নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে নমাজ বন্ধ করা হল, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।আইনজীবীর বক্তব্য, কলকাতা বিমানবন্দরের আট নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশ করে ওই মসজিদে নমাজ পড়তে যেতে হত। বর্তমানে সেই প্রবেশের ব্যবস্থাই বন্ধ রয়েছে। তাঁর দাবি, ওই জমি এখনও অধিগ্রহণ করা হয়নি। তাই একেবারে নমাজ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।কিশোর দত্ত আদালতে আরও বলেন, ধর্মীয় প্রার্থনা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া ঠিক নয়। নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ বা নিয়ম মেনে অন্তত ওই মসজিদে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। সেই ভিত্তিতেই আপাতত নমাজ পড়ার সুযোগ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।এই মসজিদকে ঘিরে নিরাপত্তার প্রশ্ন অবশ্য নতুন নয়। বিমানবন্দর সম্প্রসারণ এবং দ্বিতীয় রানওয়ের সঙ্গে মসজিদের অবস্থান নিয়ে এর আগেও আলোচনা হয়েছে। মসজিদটি দীর্ঘদিন ধরে সেখানে রয়েছে বলে স্থানীয়দের বক্তব্য। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তরফে নিরাপত্তা ও প্রবেশাধিকার নিয়ে আপত্তির কথাও আগে প্রকাশ্যে এসেছে।এর আগে এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, সরকার কাউকে ধর্মপালনে বাধা দিচ্ছে না। তবে জাতীয় নিরাপত্তা এবং বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে বলে তাঁর বক্তব্য ছিল।এখন হাই কোর্টে মামলার পরবর্তী শুনানির দিকে নজর রয়েছে। দীর্ঘদিনের ধর্মাচরণের ব্যবস্থা ফের চালু হবে কি না, নাকি বিমানবন্দরের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে অন্য কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা পরবর্তী আদালতীয় প্রক্রিয়াতেই স্পষ্ট হবে।

অক্টোবর ০১, ২০২৬
রাজ্য

অন্নপূর্ণা থেকে আবাস, কৃষি থেকে শিক্ষাশ্রী! শুক্রবার থেকেই ২০ প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারবেন

পুজোর মরসুমের মধ্যেই সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি প্রকল্প ও পরিষেবার সুবিধা আরও সহজে পৌঁছে দিতে শুক্রবার, ২ অক্টোবর থেকে রাজ্যজুড়ে শুরু হচ্ছে তিন দিনের বিশেষ সেবা সেতু অভিযান। ২, ৩ ও ৪ অক্টোবর এই শিবির চলবে। কলকাতার ১৬টি বরো এবং রাজ্যের বিভিন্ন ব্লক ও পুর এলাকায় এই পরিষেবা শিবির আয়োজন করা হচ্ছে।এই শিবিরে একাধিক সরকারি প্রকল্পের জন্য আবেদন এবং পরিষেবা সংক্রান্ত সহায়তা পাওয়ার সুযোগ থাকবে। অন্নপূর্ণা যোজনা, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, শিক্ষাশ্রী, জয় জোহার, প্রধানমন্ত্রী কিষান ক্রেডিট কার্ড, প্রধানমন্ত্রী কিষান স্বনিধি-সহ বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা দেওয়ার কথা রয়েছে। সরকারি প্রকল্পের বিষয়ে তথ্য জানার পাশাপাশি যোগ্য ব্যক্তিরা নতুন করে আবেদনও করতে পারবেন বলে জানা গিয়েছে।প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শিবির চলার কথা। বিভিন্ন সরকারি দফতরের আধিকারিকরা সেখানে উপস্থিত থাকবেন। একাধিক ব্যাঙ্কের তরফেও কাউন্টার খোলার ব্যবস্থা থাকবে। ফলে সরকারি প্রকল্পের আবেদন বা পরিষেবা সংক্রান্ত কোনও সমস্যা থাকলে সাধারণ মানুষ সরাসরি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাবেন।কলকাতায় প্রতি দুটি ওয়ার্ডের জন্য একটি করে বিশেষ সহায়তা শিবির খোলার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে শহরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা নিজেদের কাছাকাছি শিবিরে গিয়ে সরকারি প্রকল্প সম্পর্কে তথ্য নিতে এবং প্রয়োজনীয় পরিষেবার জন্য আবেদন করতে পারবেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।এবারের সেবা সেতু অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য হল সরকারি প্রকল্পের সুবিধা আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প সম্পর্কে অনেকের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকায় তাঁরা অনেক সময় আবেদন করতে পারেন না। সেই সমস্যা কমাতেই একই জায়গায় বিভিন্ন পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।শিবিরে সাধারণ মানুষের ভিড় বাড়তে পারে বলে আগেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম পূরণ করতে অনেক মানুষ আসতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে। তাই পরিষেবা দেওয়ার পাশাপাশি ভিড় সামলানোর দিকেও নজর রাখা হচ্ছে।কলকাতার প্রতিটি শিবিরে অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার জন্য লালবাজারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তিন দিনই শিবিরগুলিতে পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি প্রকল্পের কাউন্টারে যাতে ভিড়ের কারণে কোনও সমস্যা তৈরি না হয়, সে দিকেও নজর থাকবে প্রশাসনের।সাম্প্রতিক সরকারি কর্মসূচির নির্দেশিকা অনুযায়ী, সেবা সেতু অভিযান সেবা সংকল্প অভিযান-এর একটি অংশ। ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বৃহত্তর কর্মসূচির আওতায় ২ থেকে ৪ অক্টোবর জনকল্যাণমূলক পরিষেবা শিবির আয়োজনের কথা রয়েছে।ফলে সরকারি প্রকল্পে নতুন করে আবেদন করতে চান বা কোনও প্রকল্পের পরিষেবা নিয়ে সমস্যায় রয়েছেন, এমন মানুষের জন্য ২ থেকে ৪ অক্টোবরের এই শিবির গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। নিজের এলাকার শিবিরের নির্দিষ্ট স্থান ও সময় স্থানীয় প্রশাসন বা সরকারি তথ্যসূত্র থেকে যাচাই করে নিয়ে সেখানে যাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

অক্টোবর ০১, ২০২৬
দেশ

চার অ্যাকাউন্টে ৮০৪ কোটি, চাওয়া হয়েছিল ব্যবহারের অনুমতি! সুপ্রিম কোর্টে কী হল তৃণমূলের?

তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা বিপুল টাকা ব্যবহার করা নিয়ে ফের আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবিরের চারটি ফ্রিজ করা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট চালানোর অনুমতি চেয়ে করা আবেদন বৃহস্পতিবার খারিজ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি পি বি ভারালের বেঞ্চ কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করতে রাজি হয়নি। একই সঙ্গে হাই কোর্টকে মামলাটির দ্রুত শুনানি করতে অনুরোধ করেছে শীর্ষ আদালত।চারটি অ্যাকাউন্টে প্রায় ৮০৪ কোটি টাকা রয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়েছে। ওই অ্যাকাউন্টগুলির টাকা ব্যবহার করার অনুমতি চেয়েছিল মমতা শিবির। দলের দৈনন্দিন কাজ চালানো এবং সামনে থাকা নির্বাচনী কর্মসূচির জন্য অর্থের প্রয়োজন রয়েছে বলে তাদের পক্ষের আইনজীবী আদালতে সওয়াল করেন। প্রতি মাসে প্রায় ১২ কোটি ১৫ লক্ষ টাকা প্রয়োজন বলেও তৃণমূল শিবিরের তরফে জানানো হয়েছিল।মমতা শিবিরের হয়ে আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি আদালতে দাবি করেন, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হয়ে যাওয়ায় দলের দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। কর্মীদের বেতন, দফতরের খরচ এবং অন্যান্য সাংগঠনিক কাজ চালাতে অর্থ প্রয়োজন বলেও তিনি জানান। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচনের সময় দলের আরও বেশি খরচ হয়।এর আগে কলকাতা হাই কোর্ট চারটি অ্যাকাউন্ট পুরোপুরি চালানোর অনুমতি দেয়নি। গত অগস্টে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন, আগের নির্দেশ অনুযায়ী বিশেষ আধিকারিকের মাধ্যমে দলের দৈনন্দিন খরচ চালানোর ব্যবস্থা রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে চারটি অ্যাকাউন্ট আলাদা করে চালানোর অনুমতি দিলে আগের নির্দেশই কার্যত অকার্যকর হয়ে যেতে পারে। তাই ওই পর্যায়ে অতিরিক্ত অন্তর্বর্তী স্বস্তি দেওয়া হয়নি।বৃহস্পতিবার সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যায় মমতা শিবির। কিন্তু বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি পি বি ভারালের বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, এই পর্যায়ে হাই কোর্টের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে না। আদালত মামলার মূল অভিযোগের সত্যতা বা অ্যাকাউন্টের টাকার চূড়ান্ত অধিকার কার, সেই প্রশ্নেরও নিষ্পত্তি করেনি। বরং কলকাতা হাই কোর্টকে দ্রুত শুনানির অনুরোধ করেছে।এই মামলায় তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে কোন পক্ষ দলটির সম্পদ ও ব্যাঙ্কের টাকার উপর অধিকার রাখবে, সেই বৃহত্তর প্রশ্নের নিষ্পত্তি এখনও হয়নি। সুপ্রিম কোর্টও জানিয়েছে, এই বিরোধের মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত টাকার অধিকার নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া যাচ্ছে না।অন্যদিকে, মামলায় সরকারি পক্ষের তরফে তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার আগের বক্তব্য অনুযায়ী, কয়েকটি সংস্থা ও ব্যক্তির কাছ থেকে ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে টাকা জমা বা স্থানান্তরের অভিযোগ রয়েছে। তবে এই সমস্ত অভিযোগ এখনও তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়। আদালত বৃহস্পতিবার এই অভিযোগগুলির সত্যতা নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি।এর আগে তিনটি অন্য ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে কলকাতা হাই কোর্ট বিশেষ আধিকারিক নিয়োগ করে দলের দৈনন্দিন খরচ চালানোর ব্যবস্থা করেছিল। সেই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে করা আবেদনেও সুপ্রিম কোর্ট হাই কোর্টের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করেনি। ফলে বর্তমানে চারটি অ্যাকাউন্টের প্রায় ৮০৪ কোটি টাকা সরাসরি ব্যবহার করার অনুমতি মমতা শিবির পেল না।তবে বৃহস্পতিবারের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছে, তারা মামলার মূল মেরিটে প্রবেশ করছে না। অর্থাৎ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা অর্থ বেআইনি কি না, কার অধিকার রয়েছে বা তদন্তে ওঠা অভিযোগের সত্যতা কতটাএসব প্রশ্নের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এই শুনানিতে হয়নি। এখন কলকাতা হাই কোর্টে মূল মামলার দ্রুত শুনানির দিকেই নজর থাকবে।

অক্টোবর ০১, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal